দলের ডামাডোলের মধ্যেই রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় কংগ্রেস। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোট গড়ে তুলতে ফের ময়দানে নামছেন সনিয়া গান্ধী। তাই বুধবারই বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে ‘ভার্চুয়াল’ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। 

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নিট এবং জেইই পরীক্ষা নেওয়ার দিন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কিন্তু  করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়, তাই পরীক্ষা  পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে সোমবারই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি নিয়ে জোট বাঁধতে শুরু করেছে বিরোধীরা। সূত্রের খবর বিরোধীদের নিয়ে বৈঠকের যৌথ আহ্বায়ক হওয়ার জন্য মমতাকে প্রস্তাব দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। সেই আহ্বান গ্রহণ করে মমতার প্রস্তাব, বর্তমান সময়ের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনা করে ওই বৈঠকে নিট এবং জেইই-প্রশ্নে আলোচনা হোক। যা মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। 

আরও পড়ুন: পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে আনলক ৪ চালু হচ্ছে দেশে, গ্রিন সিগন্যালের ভাবনা লোকল ট্রেন ও মেট্রোকে

বুধবার  দুপুর আড়াইটেয় ভার্চুয়াল বৈঠক হবে৷ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, 'সব অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, তিনি সম্ভবত থাকতে পারবেন না, তাঁর একটি পূর্বনির্ধারিত অন্য কাজ রয়েছে৷' তবে বৈঠকে থাকবেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলা, পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে প্রমুখ৷

সোমবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত সভানেত্রী পদে থাকছেন সনিয়া গান্ধীই।   নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে সমন্বয় করার প্রধান দায়িত্ব সনিয়া গান্ধীকেই নিতে হবে বলে মনে করছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাও। সেই মতোই মঙ্গলবার আসরে নেমেছেন সনিয়া। মমতাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ ভাবে বিরোধী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠক ডাকতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দেড় বছর পরে পুলওয়ামা হামলার চার্জশিট দিল এনআইএ, নাম রয়েছে মাসুদ আজহার সহ ১৯ জঙ্গি নেতার

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভানেত্রীর বার্তা আসে মমতার কাছে। সনিয়া চাইছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই বৈঠক হোক। এমন বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে মমতা প্রস্তাব দেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্র-ছাত্রীদের উপরে নিট এবং জেইই চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদকে আলোচ্য করা হোক। সেই প্রস্তাবই মেনে নিয়েছেন সনিয়া। পাশাপাশি, পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে অভিমত দিয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার জন্য সর্বোচ্চ আদালতে কেন্দ্রের তরফে আবেদনের আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও এ দিন ফের চিঠি দিয়েছেন মমতা।

তৃণমূল সূত্রের বক্তব্য, সনিয়া-মমতার যৌথ উদ্যোগে এমন বৈঠক সাম্প্রতিক কালে প্রথম।প্রাথমিক ভাবে সনিয়ার প্রস্তাব ছিল, দেশের অর্থনীতির সঙ্কট এবং রাজ্যগুলির আর্থিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে ওই বৈঠক হোক। তাই পরীক্ষা স্থগিতের  ইস্যু ছাড়াও দেশের যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রাখাকেও অ্যাজেন্ডা রাখা হয়েছে বৈঠকে৷ সংসদে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদের এই বৈঠক অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে  বিরোধী ঐক্য ভীষণ ভাবে ধাক্কা খেয়েছে সংসদে কয়েকটি বিল পাশের সময়৷ বিরোধীদের মধ্যে অনৈক্যের কারণে সেই বিলগুলি নির্বিঘ্নে পাশ করাতে পেরেছে কেন্দ্র৷

সর্বভারতীয় নিট এবং জেইই পরীক্ষা ১ সেপ্টেম্বর থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ গোটা দেশে বেড়ে চলায় উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। বস্তুত, নিট এবং জেইই-র প্রশ্নে বিরোধী শিবিরের মত  কেন্দ্রের শাসক এনডিএ-র মধ্যে থেকেও প্রতিবাদ বাড়ছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং  বিহারে এনডিএর জোটসঙ্গী  চিরাগ পাসোয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানিয়ে কেন্দ্র যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন মমতাও।