জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে সবচেয়ে বিতর্কিত ৩৭০ ধারা রদের প্রস্তাব উত্থাপন করতেই রাজ্যসভার ভিতরে এবং বাইরে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধীরা। সোমবার  রাজ্যসভার  অধিবেশনে দাঁড়িয়ে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব দিতেই কার্যত বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধীরা। 

এদিন সংসদে পিডিপির দুই সাংসদ মীর ফৈয়াদ ও নাজির আহমেদ সংবিধানের কপি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু করেন। এই ঘটনার পরে পিডিপির ওই সাংদদের রাজ্যসভার কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। সেইমতো তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যসভার বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর মির মহম্মদ ফইয়াজ সংসদ ভবনের বাইরে বেরিয়ে জামা ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেন। এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা  এদিন একটি বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছেন কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কেন্দ্রের বিশেবাসঘাতকতার চরমতম প্রমাণ এটি। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এদিন বলেন, আজ গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন।  কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ কোনও দিনই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। 

 

প্রসঙ্গত, এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় পেশ করলেন কাশ্মীর পুনর্গঠন প্রস্তাব বিল। প্রস্তাবিত এই নয়া বিল অনুসারে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ অধিকার বাতিল করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ৩৫এ ধারায় বর্ণিত রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দাদের বিশেষ সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের যে অধিকার প্রদান করা হয়েছে তাও বাতিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিলে সইও করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।