নির্মল ভারত গঠনের ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করল ওড়িশার একটি গ্রাম। বাড়িতে শৌচাগার থাকার পরেও ওই পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা প্রকাশ্যেই প্রাতঃকৃত্যে অভ্যস্ত ছিল। বার বার নিষেধ করার পরও  নিজেদের অভ্যাস বদলানোর চেষ্টা করেননি তাঁরা। বাধ্য হয়েই পঞ্চায়েতকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হল।  প্রকাশ্যে প্রাতঃকৃত্য করার অভিযোগে ২০টির বেশি পরিবারের সদস্যদের রেশন বন্ধ করে দিল ওই পঞ্চায়েত প্রধান। 

ওড়িশার গানজাম জেলার গৌতমী পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান সুশান্ত সোয়াইন জানিয়েছেন,  ২০ অক্টোবর পঞ্চায়েতের তরফে একটি বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ওই পরিবাগুলোর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রাস্তায় প্রাতঃকৃত্যে অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। এই  ভুলের শাস্তি হিসেবে গত ১১দিন ধরে তাঁরা রেশন থেকে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না। গৌমতী পঞ্চায়েতের বেশিরভাগ বাসিন্দা দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করেন। যার ফলে তাঁদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি রেশনের ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়। যার ফলে ওই  পঞ্চায়েতের অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা বেজায় বিপাকে পড়েছেন। 

 আরও পড়ুন আরডিএক্স নয়, দিল্লি বিমানবন্দরে উদ্ধার হওয়া ব্যাগে চকোলেট, কানের দুল

পঞ্চায়েত প্রধান সুশান্ত জানিয়েছেন, শৌচাগারের অভ্যাস করার জন্য এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই গ্রামের ৩০০ বেশি মহিলা রয়েছেন। তাঁরা কিছুতেই শৌচাগারের ব্যবহার করতে চান না। ফাঁকা জায়গায় প্রাতঃকৃত্য ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। সেই কারণে ভোর তিনটে থেকে পাঁচটার মধ্যে কিংবা সন্ধ্যা পাঁচটা থেকে আটটার মধ্যে ফাঁকা জায়গাতে প্রাতঃকৃত্য করে থাকেন।  এই বিষয়ে অনেকবার নিষেধ করার কোনও ফল হয়নি। তিনি মন্তব্য করেছেন, কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পঞ্চায়েতের সদস্যদের কোনওভাবে শৌচাগারের অভ্যাস করানো সম্ভব নয়। আবার যদি প্রকাশ্যে প্রাতঃকৃত্য করতে দেখা যায়, তাদের বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। যদিও এখনও অনেকের শৌচাগার তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য প্রকাশ করেছেন সুশান্ত। তিনি জানিয়েছেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ২০০০ পরিবারের বাস। তার মধ্যে ১৮০টি পরিবারের এখনও শৌচাগার প্রস্তুত হয়নি। সেক্ষেত্রে ওই পরিবারের জন্য অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।