সোমবার দিল্লির ভয়াবহ নির্ভয়া কাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হল। এখনও এই কাণ্ডের চার অভিযুক্ত (প্রধান আসামি আত্মহত্যা করেছিল, আরেক দোষী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুক্তি পেয়েছে)-এর এখনও ফাঁসি হয়নি। তবে ফাঁসির দড়ি এসে গিয়েছে তিহার জেলে। তিহার জেলে বর্তমানে ফাঁসুড়ে না থাকায় উত্তরপ্রদেশের দুই ফাঁসুড়ে-কে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রথম পছন্দ মীরাটের পবন জল্লাদ। তিনি জানিয়েছেন নির্ভয়ার দোষীদের ফাঁসি দেওয়াটা তাঁর জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত হবে। ভাঙতে পারেন দাদুর রেকর্ডও।

আজতক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, 'জল্লাদ' ডাক তাঁর কাছে কি লজ্জার? পবন জল্লাদ জানিয়েছেন এটা তাদের পারিবারিক পেশা। তাই তিনি মোটেও লজ্জিত নন। আদালতের আদেশ এলে নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষীকেই একসঙ্গে তিনি ফাঁসিতে ঝোলাতে প্রস্তুত। তিনি জানিয়েছেন এই চারজনকে ফাঁসি দিলে তিনি তাঁর ঠাকুরদার রেকর্ডও ভেঙে দেবেন।

নির্ভয়া কাণ্ডের দোষীদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে গিয়েছে। কাজেই এখন যে কোনও দিনই তাদের ফাঁসি হতে পারে। কিন্তু তিহার জেলে একজনও ফাঁসুড়ে নেই। এরপর গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার লখনউ থেকে মীরাট-এর কারা প্রশাসনকে পবনকে তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মীরাট কারাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিডি পান্ডে বলেছেন লখনউয়ের সদর দফতর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে পবন জল্লাদকে তিহারে তলব করা হতে পারে।

চার প্রজন্ম ধরে পবনের পরিবার জল্লাদ হিসেবে কাজ করে। পঞ্চাশ বছরের উপর তাঁর পরিবার এই কাজে যুক্ত। তাঁর বাবা মামু জল্লাদ দুজন আসামিকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা অবশ্য অনেক লোককেই ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন। নির্ভয়ায় চারজনকে ফাঁসি দিতে পারলে ঠাকুরদার সেই রেকর্ড ভেঙে দেবেন পবন। তবে তাঁদের পরিবারে এই কাজ শুরু করেছিলেন পবনের ঠাকুরদার বাবা লক্ষ্মণ রাম।