কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের পর থেকে ইন্টারনেট নিষিদ্ধ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ভর্ৎসনা করেছে সরকারকে। কিন্তু তাতে কী। রবিবার নীতি আয়োগের এক সদস্য় উপত্য়কায় নেট বন্ধের পক্ষে সাফাই দিয়ে বললেন, "ওখানে নেট বন্ধ হওয়ায় কী এমন ক্ষতি হয়েছে। অনলাইন ব্য়বসাও কিছু হয় না ওখানে। ওখানে তো নেটে সবাই অশ্লীল সিনেমা দেখে। "

নীতি আয়োগের সদস্য় ভিকে সারস্বত রবিবার ধীরুভাই আম্বানি ইনস্টিট্য়ুট অব ইনফরমেশন অ্য়ান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির সভায় বক্তব্য় রাখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য় করেন। তাঁর কথায়, কাশ্মীরে ইন্টারনেট না-থাকায় সেখানকার অর্থনীতিতে কোনও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়েনি। আর তাই তাঁর মতে, সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোনও ক্ষতি হয়নি। সেইসঙ্গে অবশ্য় তাঁর সংযোজন, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করতে হলে, কাশ্মীরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে, এটা প্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, ইন্টারনেটের অপব্য়বহার করে সেখানকার  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তৈরি অনেকেই।

এদিকে কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্য়ান্ড ইনডাস্ট্রি (কেসিসিআই) সারস্বতের এই মন্তব্য়ের তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্য়াহার করার দাবি জানিয়েছে। কেসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট শেক আশিক বলেন, "আমরা এই মন্তব্য়ের বিরোধিতা করছি। ওঁরা কাশ্মীরের মানুষের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াচ্ছেন। উপত্য়কার মানুষদের সম্মন্ধে কেউ তাঁকে এমন মন্তব্য় করার অধিকার দেয়নি।"

প্রসঙ্গত, গতবছরের ৫ অগস্ট কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করা হয়। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্য়াহার করে নেওয়া হয়। ওইদিন থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।  যার জন্য় উপত্য়কার সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ল্য়ান্ডলাইন ও মোবাইল ফোন পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশ কিছুদিনের জন্য়।  পরে ল্য়ান্ডলাইন পরিষেবা ফিরে এলেও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকে দীর্ঘদিনের জন্য়। যার জন্য় সুপ্রিম কোর্টও তীব্র  ভর্ৎসনা করে সরকারকে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট বলে, অনির্দিষ্টকালের জন্য় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকা কার্যত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরই শামিল।  তারপর আংশিকভাবে নেট পরিষেবা ফিরে আসে উপত্য়কায়।