একবিংশ শতাব্দীতে আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের জন্য ভারত তাকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানের দিকে। শুক্রবার 'বৈভব' অর্থাৎ বৈশ্বিক ভারতীয় বৈজ্ঞানিক শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আমরা সিস্টেমে জড়তা ভেঙেছি। চিকিৎসা, কৃষিক্ষেত্র, মহাকাশ থেকে আত্মনির্ভর ভারত - সমস্ত ক্ষেত্রেই ভারত সরকার বিজ্ডানকে কীভাবে কাজে লাগাতে চায় - সেই চিত্রই এদিন দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।  

করোনা মহামারির সময়ে প্রথমেই নরেন্দ্র মোদী তোলেন ভ্যাকসিন-এর কথা। তিনি জানান, ২০১৪ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পরই ভারত সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে চারটি নতুন ভ্যাকসিন চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল দেশেই তৈরি করা রোটাভাইরাসের টিকা। মোদী জানান তাঁর সরকার সবসময়ই দেশীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনকে উত্সাহিত করে।

এরপরই তিনি আসেন কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যবহারের প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের সহায়তার জন্য শীর্ষমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা চায় ভারত। দেশের কৃষি গবেষণা বিজ্ঞানীরা ডালের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। সেই কারণেই আজ ভারতকে খুব সামান্য পরিমাণ ডাল-ই আমদানি করতে হয়। বিজ্ঞানই ভারতের খাদ্যশস্য উৎপাদনকে রেকর্ড পরিমাণ শীর্ষে নিয়ে গিয়েছে।

এরপর তিনি বলেন আত্মনির্ভর ভারত-এর কথা। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রচার আসলে বিশ্ব কল্যাণের জন্য নেওয়া হয়েছে। এই স্বপ্নটি বাস্তব করার জন্য তিনি সম্মেলনে উপস্থিত বিজ্ঞানীদের সকলকে আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের সমর্থন আহ্বান করেন। তিনি বলেন, এই সময়ে তরুণদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। তার জন্য, 'ইতিহাসের বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের ইতিহাস' সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের প্রয়োজন। গত শতাব্দীতে, শীর্ষস্থানীয় ঐতিহাসিক প্রশ্নগুলি বিজ্ঞানের সাহায্য়েই সমাধান করা গিয়েছিল। ভারতের সমৃদ্ধ বিজ্ঞানের ইতিহাসকে আরও প্রশস্ত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।