ভোটের সময় একে অপরকে এক চুলও ছাড়েননি। রাফাল দুর্নীতিকে হাতিয়ার করেছিলেন। অন্য দিকে নরেন্দ্র মোদীর হাতিয়ার ছিল দলে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ-সহ নানা অভিযোগ। রাহুল গান্ধী প্রচারের সময় এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এমনও বলেন যে নরেন্দ্র মোদী আমাকে পছন্দ করেন  না। তারপরের নাটকীয়তা সকলের জানা। ভোট মিটেছে, কাজও শুরু করেছে নব নির্বাচিত মন্ত্রীসভা। নির্বাচনী কাজিয়া সরিয়ে রেখে এদিন রাহুল গান্ধীর ৪৯ তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ভুললেন না নরেন্দ্র মোদী।

নরেন্দ্র মোদী এদিন ট্যুইটারে লেখেন, 'রাহুল গান্ধীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই। আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি'। 


সৌজন্য দেখাতে ভোলেননি রাহুলও। সেই টুইটের প্রত্যুত্তরে রাহুল লেখেন, 'নরেন্দ্র মোদীজী, এই শুভেচ্ছার জন্যে ধন্যবাদ'।
 

প্রসঙ্গত ৪৯ এ পা রাখা রাহুল এই দিন প্রথমেই যান দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন তিনি।
 


সমর্থকরা তাঁকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় দিয়ে  অভিবাদন জানান। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, রাজ্যসভার দলনেতা গুলাম নবী আজাদ, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেলোট, এবং রাহুলের দিদি প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। এই অভিবাদনে উচ্ছ্বসিত রাহুল ট্যুইটে প্রত্যেককে ধন্যবাদও জানান। 
 

 

প্রসঙ্গত এবার লোকসভায় কংগ্রেসের শক্তি ভয়াবহ ভাবে কমেছে। সমস্ত দেখে বীতরাগ রাহুল সিদ্ধান্ত নেন দলীয় সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেবেন। তাঁকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করানো গিয়েছে কংগ্রেস সভাপতির পদে আসীন থাকার জন্যে। কিন্তু লোকসভার দলনেতা পদে তিনি থাকতে রাজি না হওয়ায় তাঁর জায়গায় বেছে নেওয়া হয়েছে অধীর চৌধুরীকে। দলনেতা না হলেও যে তাঁর গুরুত্ব লোকসভায় অনেকটাই, সেটা বোঝা গিয়েছিল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেরি করে আসায়। ওয়ানাড সাংসদ রাহুলের খোঁজ নিতে শুরু করেন অনেকেই। রাহুল শপথ নেন ওইদিন দ্বিতীয়ার্ধে। এ তো গেল সাংসদ রাহুলের শপথ। ব্যক্তি রাহুল কী সংকল্প নিচ্ছেন জন্মদিনে, সময় বলবে।