ঘূর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yaas)-এর ক্ষতির পর্যালোচনা করতে শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে বৃহস্পতিবারই এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং সম্পর্কিত বিষয়গুলি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, শক্তি মন্ত্রকের সচিব, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রকের সচিব এবং ভারতের আবহাওয়া বিভাগের ডিজি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।

শুরুতেই আলোচনা হয়, এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে। বৈঠকে জানা যায়, এই বিপর্যনের মোকবিলার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-এর প্রায় ১০৬টি দলকে মোতায়েন করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা - দুই রাজ্যেই ৪৬ টি করে এনডিআরএফ-এর দল পাঠানো হয়েছিল। তারা এখনও পর্যন্ত ১০০০-এররও বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে। ২৫০০টিরও বেশি উপরে পড়া গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ ফিরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, বড় ভূমিকা মনিয়েছে প্রতিরক্ষা বাহিনীও। সেনা ও উপকূল রক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা দুর্গতদের উদ্ধারে সক্রি ভূমিকা নিয়েছে। নৌ ও বিমানবাহিনী সদা সতর্ক অবস্থায় ছিল, যেকোনও প্রয়োজনে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়াকর জন্য প্রস্তুত ছিল।

ঘূর্ণিঝড় যশের দাপটে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ওড়িশায়। বঙ্গে আমফানের সমের মতো ঝড় না হলেও সমুদ্র ও নদীতে জলোচ্ছ্বা,সে বহু এলাকা প্লাবিত। সমনুদ্রের নোনা জল ঢুকে ক্ষতি হয়েছে বহু জমিজমার। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটা এখনও কোনও রাজ্যই নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে কেন্দ্রের প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, প্রাণহানি প্রায় হয়নি বললেই চলে। এর কারণ, সঠিক ও সময়োপোযোগী পূর্বাভাস। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সময়মতো তাদের নিরাপদ এলাকায় সরিয়েও নিয়ে গিয়েছিল। তবে তারপরেও বহু এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলেই অবশ্য বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা ফিরিয়ে আনা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ের এই কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির এবং ও রাজ্য সরকারগুলির কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। বৈঠকে উপস্থিত সকলকে তিনি বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে দেওয়াই কেন্দ্রের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্য়ে যথাযথভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে। শুক্রবার রাজ্য পরিক্রমার পর তিনি বাংলা ও ওড়িশার জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।