বুধবার ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে রাজ্যে কমপক্ষে ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সরকারি ভাবে এমনটাই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। মৃতদের মধ্যে শহর কলকাতারই ১৯ জন। আমফানের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এতিমধ্যে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। এই অবস্থায় কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে শুক্রবার রাজ্যের আমফান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এমনিতেই সারা দেশ করোনা সংক্রমণে কাবু। দিনে দিনে এরাজ্যেও বাড়ছে মারণ ভাইরাসের প্রকোপ। এরমধ্যেই আমফানের তাণ্ডবে কার্যত দিশেহারা রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক অতীতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বারবার কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যকে দ্বৈরথে জড়াতে দেখা গেছে। কিন্তু আমফানের মোকাবিলায় আপাতত দুই তরফই একে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। 

শুক্রবার  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়েই হেলিকপ্টারে আমফান  বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আকাশপথে এলাকা পর্যবেক্ষণের পরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে নামবেন তাঁরা। সেখানে রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মূল্যায়ন-বৈঠক করবেন মোদী ও মমতা। 

দেশে লকডাউন শুরুর পরে এই প্রথম বাইরে বেরোচ্ছেন মোদী। এদিকে বুধবার আমফানের তাণ্ডবের পর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া না আসায় বাংলাজুড়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। যদিও এরপর বেলা দেড়টা নাগাদ ট্যুইট করেন মোদী। জানান, 'ঘূর্ণিঝড় উম্পুনে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ছবিতে দেখলাম। কঠিন এই সময়ে গোটা দেশই পশ্চিমবঙ্গের পাশে রয়েছে। রাজ্যের মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছে দেশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

 দুপুরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে ট্যুইট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমতি শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও ফোনে ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাবদ অর্থ সাহায্যের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, '৫০০ দিন বাদে টাকা পেলে লাভ নেই। দ্রুত দরকার। কোভিডের টাকা এখনও পাইনি। রাজ্যের ভাঁড়ারে এমনিই টান। তার উপর এই দুর্যোগ।'

মমতা আরও জানান, রাজ্যকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। তার উপরে রাজ্য সরকার বেতন, পেনশন-সহ কারও কোনও বরাদ্দ কাটছাঁট করেনি। করোনা মোকাবিলাতেও বিপুল ব্যয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। 

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে,  মোদী দমদমে নামবেন আজ সকাল সওয়া ১০টা নাগাদ। মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘণ্টাখানেক আকাশপথে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার আমফান বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে বসিরহাটে বৈঠক সেরে ওড়িশার আমফানের ক্ষয়-ক্ষতি দেখতে যাওয়ার কথা তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও ট্যুইট করে মোদীর আজকের বাংলা, ওড়িশা সফরের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রী চলে আসবেন নবান্নে। সেখানে সনিয়া গান্ধীর ডাকা বিরোধী নেতাদের ভিডিয়ো-বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন জানার পর  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেন্দ্র এই তাণ্ডবের ভয়াবহতা জানতে পেরেছে। পাশাপাশি আমরাও তাদের বলেছি। আশা করি সহযোগিতা পাব। তবে যত ক্ষণ না-পাই, কিছু বলতে পারব না। আমরা কোনও বিতর্ক চাই না।’’

সূত্রের খবর, প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রী বিমানে কলাইকুণ্ডায় নামবেন। তার পর কপ্টারে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ও সংলগ্ন এলাকা দেখে ডায়মন্ড হারবারে যাবেন। সেখানে কথা বলবেন ওই জেলার দুর্গতদের সঙ্গে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন দিল্লিকে জানায়, ওখানে হেলিপ্যাড তৈরি করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তার পর নবান্ন ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আলোচনার ভিত্তিতে বসিরহাটে মোদীর সফর চূড়ান্ত হয়।