নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের অনুমোদনের রেটিং অর্থাৎ তাঁদের দেশের জনগণ কতটা পছন্দ করছে, তা পর্যবেক্ষণ করে থাকে মার্কিন সংস্থা 'মর্নিং কনসাল্ট'। শনিবারই তারা জানিয়েছে, ২০২০ সালের শেষে ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অনুমোদন করেছেন। আর ২০ শতাংশ মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে তাঁর তার অনুমোদনের রেটিং রয়েছে ৫৫ শতাংশে রেখেছেন। বিশ্বের অন্য যে কোনও রাষ্ট্রনেতার থেকে অনেকটাই বেশি। এই নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সথেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ বিজেপির প্রায় সব নেতামন্ত্রীই এই নিয়ে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, এদিন বিজেপি দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেন, গত ছয় বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর গণ অনুমোদনের হার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে,  এটা একটা 'বিরল ঘটনা'। সাধারণত বেশিরভাগ রাষ্ট্রনেতাদেরই অনুমোদনের রেটিং ওঠানামা করে। সেই প্রবণতাকে অস্বীকার করেছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর গ্রহণযোগ্যতা।

এই সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে জেপি নাড্ডা এদিন টুইট করেছেন, বিভিন্ন অন্যান্য বিষয়গুলির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ হাতে এবং কোভিড-১৯ সংকটের মোকাবিলা করার কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবারও সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন। নাড্ডার দাবি, মোদীর এই জনপ্রিয়তা দেশীয় জনগোষ্ঠী বা দেশীয় ভৌগলিক অঞ্চলেই বাড়েনি, দেশের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপীও তিনি সম্মান পেয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ মনে করছেন, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। এই রেটিং সমস্ত ভারতীয়-এর জন্য গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

'মর্নিং কনসাল্ট'-এর সমীক্ষা অনুসারে, অনুমোদনের হারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরই রয়েছেন, জার্মান চ্যান্সেলর। যদিও তাঁর অনুমোদনের হার মাত্র ২৪ শতাংশ। অনেক পরে রয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল-এর রাষ্ট্রপ্রধানরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অনুমোদনের রেটিং তো নেতিবাচক, অর্থাৎ তাঁকে অনুমোদন জানিয়েছেন যতজন, তার থেকে বেশি মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন।