গত সপ্তাহে বিজেপি নেতাদের একের পর এক উসকানিমূলক বক্তৃতার পর, গত চারদিনে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এবং শাহিনবাগে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদীদের উপর তিনবার গুলি চলেছে। সোমবার দিল্লিতেই এক জনসভায় সেই নিয়ে একটি কথাও মুখে আনলেন না প্রধানমন্ত্রী নকেন্দ্র মোদী। বরং দাবি করলেন জামিয়া থেকে শাহিনবাগ - যেখানে যেখানে আন্দোলন হচ্ছে, তার পিছনে কংগ্রেস ও আপ দলের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।

গত লোকসভা ভোটের পর থেকে বিজেপির সময়টা ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া, তারমধ্য়ে সিএএ-এনআরসি নিয়ে প্রতিবাদে উত্তাল গোটা দেশ। তারমধ্যে দিল্লিতেও বিজেপির বিশেষ কিছু জুটবে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাজেটেও, সাধারণ মানুষ থেকে বানিজ্যমহল - কারোরই মন ভরেনি। শেষ লগ্নের প্রচারে তাই প্রধানমন্ত্রী শরণাপন্ন হলেন সেই বিষয়ের যা তাঁকে লোকসভা নির্বাচনে চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছিল, ভারতীয় সেনা।

লোকসভা নির্বাচনের প্রচারসভার পর বহুদিন বাদে এদিন তাঁর মুখে ফের শোনা গেল, 'এইসব বিরোধী নেতারাই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় আমাদের সেনাবাহিনীর দক্ষতার বিষয়ে সন্দেহ করেছিল। দিল্লির নাগরিকরা কি এই জাতীয় লোকদের ক্ষমতায় দেখতে চান?' এরপরই তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকে যারা টুকরো টুকরো করতে চায় তাদের বাঁচাতে চাইছে কংগ্রেস ও আপ। জামিয়া, শাহিনবাগ-সহ এই সমস্ত প্রতিবাদের পেছনে একটি রাজনৈতিক নকশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কেন এই দাবি করছেন তিনি? নরেন্দ্র মোদীর মতে যদি এটি সত্যি সত্যি একটি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হত, তাহলে সরকারের আশ্বাস পেলেই তা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এতদিন ধরে আন্দোলন চলাটা সন্দেহজনক। এতদিন ধরে চলছে, কারণ আপ এবং কংগ্রেস জনগণকে উসকানি দিচ্ছে। সংবিধান ও তেরঙ্গা রতাকা সামনে রেখে, আসল ষড়যন্ত্র থেকে মানুষের মন অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মোদী।

সিলামপুর, জামিয়া বা শাহিনবাগের মতো এলাকায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। নরেন্দ্র মোদীর মতে দিল্লি ভোটের আগেই এই ঘটনা কখনই কাকতালীয় হতে পারে না। এটা আসলে একটা পরীক্ষামূলক রাজনৈতিক ষড়ষন্ত্র। দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য একটি রাজনৈতিক নকশা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

গত কয়েকদিনে পরবেশ ভার্মা থেকে শুরু করে অনুরাগ ঠাকুর, যোগী আদিত্যনাথ এমনকী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও শাহিনবাদ ও জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে যে মাসব্যপী প্রতিবাদ চলছে তার বিরুদ্ধে সুর চড়ান। এমনকী তাদের দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে গুলি মারার স্লোগানও ওঠে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও।