দেশের দুই টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল-এমটিএনএল-এ আর্থিক অনটন চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। গত কয়েক বছর ধরেই অর্থাভাবে ধুঁকছে বিএসএনল। বর্তমানে অবস্থা শোচনীয়। প্রতি মাসে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ফারাক থাকছে, যা কোনওভবাবেই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক সাহায্য না পেলে সংস্থা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। কর্মীদের মধ্যেই আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছিল,  আর হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে না এই সংস্থাকে।

দেখুন ভিডিও: বন্যা থেকে রেহাই পেলেন না ইয়ালামাদেবী, ভাসল কর্ণাটকের মন্দির 

বিএনএনএলের আর্থিক অনটন এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে  বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ১৮ বছেরর ইতিহাসে বেতন বন্ধের ঘটনা ছিল এই প্রথম। নিজেদের ১.৭৬ লক্ষ কর্মীর জন্য মাসে অন্তত ৮৫০ কোটি টাকা লাগে বিএসএনএলের। কিন্তু বেশ কয়েকমাস হল সেই বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে ১৪,০০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার।

দেখুন ভিডিও: টোটোর ছাদেই মিনি গার্ডেন, পরিবেশ বাঁচানোর শপথ মহিষাদলের হারাধনের

তবে দীপাবলির আগেই আলোর রেখা দেখতে পেল বিএসএনএলয রাষ্ট্রায়ত্ত্ব টেলিকম সংস্থার পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)-এর সঙ্গে মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেডের (এমটিএনএল) সংযুক্তিকরণের প্রস্তাবে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। 

দেখুন ভিডিও: গোলা ছুড়েছিল পাকিস্তান, আগাম দীপাবলি পালন ভারতীয় সেনার

বর্তমানে বিএসএনএস দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্থ পিএসইউ। তৃতীয় ক্ষতিগ্রস্থ পিএসইউ এমটিএনএল। গত দশ বছর ধরেই দুই সংস্থার গ্রাফ নিম্নমুখী।   অতিরিক্ত কর্মচারীর বিপুল মাইনে, খারাপ ম্যানেজমেন্ট, অকারণ সরকারি হস্তেক্ষেপের জেরে ধুঁকছে সরকারি সংস্থা দুটি। তাছাড়া নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসতেও মন্থর বিএসএনএল। বিএসএলএল-এর মোবাইল সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাজারের মোটে ১০ শতাংশ। এই বিষয়ে মাস কয়েক আগেই খোঁজখবর নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এঁটে উঠতে না পেরে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরপর লোকসান হয়েছে দুটি সংস্থার। সেই প্রেক্ষাপেটই এই সংযুক্তিকরণের পদক্ষেপ বলে দাবি করছে কেন্দ্র। দুটি কোলসানে চলা টেলিকম সংস্থার পুনরুজ্জীবনে ২৯,৯৩৭ কোটি টাকার প্যাকেজ অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। এই প্যাকেজে আগামী ৪ বছরে বাজারে বন্ড ছেড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা তোলা ও ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে অর্থ আয়ের পরিক্লপনা হাতে নেওয়া হয়েছে। 

তবে পুনরুজ্জীবনের সঙ্গেই থাকছে কর্মী ছাঁটাই। ৫৩ বছর ৬ মাসের বেশি বয়লসী কর্মীরা ভিআরএস নিলে চাকরির বাকি বছরগুলিতে বেতন, গ্র্যাচুইটি, পেনশনের ১২৫ শতাংশ পেআইট দেওয়া হবে। কর্মীদের অর্ধেকই এই বয়সসীমার মধ্যে পড়ছেন। ফলে সরকারের পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়ায় কর্মীরা কতটা স্বস্তি পাবেন সেই প্রশ্নও কিন্তু থেকে যাচ্ছে।