নিজেদেরকেও নরেন্দ্র মোদী ভেবে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কাজ করুন। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের এই পরামর্শই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, কাজ করতে গিয়ে যদি কোনও অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়, তাহলে আমলাদের পাশে থাকবে সরকার। 

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, সোমবার শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি কাজে গতি আনার জন্য নতুন সরকার যে লক্ষ্য নিয়েছে, তাকে সফল করার জন্যই আমলাদের এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

আমলাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিটি মন্ত্রক আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধামন্ত্রী। তবে পরিকল্পনা এমন হতে হবে, যার উল্লেখযোগ্য প্রভাব আমজনতার জীবনে পড়ে। আগামী একশো দিনের মধ্যেই সেই পরিকল্পনাগুলি অনুমোদিত হবে। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমজনতার জীবনের সমস্যা সমাধানে সরকারি আমলারা যখন কোনও পরিকল্পনার কার্যকর করবেন, তখন যেন তাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের নরেন্দ্র মোদী বলেই ভাবেন। 

২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও একই ভাবে শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ দিনও নিজের বাসভবনেই শীর্ষ আমলাদের ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের মতো শীর্ষ মন্ত্রীরা।  এবারে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটাই, কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে আরও সহজ করা যায়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে সরকারি প্রকল্পে আমলাতন্ত্রের জটিলতাকে কাটিয়ে দ্রুত কাজ করাই এখন প্রধানমন্ত্রী মূল লক্ষ্য। এ দিন প্রায় আড়াই ঘণ্টা শীর্ষ আমলাদের সেই বার্তাটাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময়েই তদন্তের মুখে পড়ার ভয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ  সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে পিছিয়ে যান শীর্ষ আমলারা। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে এ দিন বলেন, সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ভুল হলে সরকার আমলাদের পাশেই থাকবে। 

সরকারি আধিকারিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি আমলারা ভালভাবে কাজ করেছেন বলেই দৈনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ফের মানুষ তাঁর সরকারের উপরে আস্থা রেখেছেন। বৈঠকে উপস্থিত এক শীর্ষ আমলা পরে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা তাঁদের আরও ভাল কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সিনিয়র আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন, এমন পদ্ধতি বের করতে যাতে পরিষেবা পেতে মানুষকে আর সরকারি দফতরে ঘুরতে না হয়। কারণ সেখানে গিয়েই মানুষের সবথেকে বেশি হয়রানি হয় বলে অভিযোগ। 

শুধু তাই নয়, দফতরগুলিকে প্রধানমন্ত্রী আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, সরকারের প্রথম একশো থেকে দুশো দিনের মধ্যে প্রতিদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গতে বাঁধা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজ করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশের সবথেকে দরিদ্র দশ কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে বিশেষ নজর দেওয়া এবং পিছিয়ে থাকা ১১৫টি জেলার মানুষের জীবন ধারণের মান উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছেন শীর্ষ আমলাদের একাংশ।