শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে বেশ কড়া ভাষাতেই রাষ্ট্রসংঘে ভারতের আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছের কথা জানালেন তিনি। আগে থেকে রেকর্ড করা ভাষণে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ভারতকে আর কত দিন রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার অংশ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে? রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখনও ভারতকে স্থায়ী পদ দেওয়া হয়নি। তাই নিয়েই উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। বিশ্বের জনসংখ্যার ১৮ শতাংশই ভারতবাসী। লক্ষ লক্ষ ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে ভারতের। বিশ্বব্যাপী এমন দৃড় প্রতিজ্ঞ জনসংখ্যার দেশের সন্ধান পাওয়া বিরল। রাষ্ট্রসংঘকে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের 'বসুধৈব কুটুম্বকম' অর্থাৎ বিশ্বের সকলেই পরিবার - এই ধারণার থেকে রাষ্ট্রসংঘের পরিচালন দৃষ্টিভঙ্গি  খুব একটা আলাদা নয়। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি যোগ দিবস, আন্তর্জাতিক অহিংসার বিরোধী দিবস, আন্তর্জাতিক সৌরশক্তি জোট, প্রতিবেশী প্রথম-এর মতো নীতির মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ভারতের বিভিন্ন সাম্প্রতিক অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এভাবেই রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থায় ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার দাবি জোরালো করলেন প্রধানমন্ত্রী।
 
শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রসংঘের পরিচালন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের দ্বন্দ্ব নিরসনের প্রক্রিয়াটি কখনই যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছবে কিনা তাই নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে। ৭৫ বছর আগে এই আন্তর্জাতিক সংগঠন তৈরি হয়েছিল। তারপর থেকে সময় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন, গত ৭৫ বছরে রাষ্ট্রসংঘ বিপুল সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু, সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এমন অনেক উদাহরণই রয়েছে যেগুলো বলে দেয়, রাষ্ট্রসংঘের এবার সামনে তাকানোর সময় এসেছে। পরিচালন পদ্ধতি বদলের সময় এসেছে।