ফণী দুর্যোগে ভোট প্রচার ভুলে ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা এবং ত্রাণ কার্যের তদারকিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সবাই। আগাম প্রস্তুতির ফলে দুশো কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবেও বিপুল প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে। আন্তির্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে ভারতের এই উদ্যোগ। কিন্তু দুর্যোগ কাটতেই প্রত্যাশিত ভাবেই ফণী নিয়ে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ফণী আছড়ে পড়ার পরে নিয়ম মেনেই ঝড়ে প্রভাবিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন করে পরিস্থিতির খবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েককে ফোন করলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেননি প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রীকে এড়িয়ে তিননি রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর থেকে রাজ্যের পরিস্থিতির খবরাখবর নেন। এই খবরে স্বভাবতই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীও নিজেও অবশ্য দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সরজমিনে দেখে আসেন।

 

 

যদিও প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেননি বলে যে খবর সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত হয়েছে, তা আদৌ ঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ফণী পরবর্তী পরিস্থিতির খবর নেওয়ার জন্য শনিবার সকালেই দু' বার দফতরের কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে যোগাযোগ করানোর চেষ্টা করেন। রাজ্যের তরফে প্রথমবার তাঁদেরকে ফোনে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী সফরে ব্যস্ত রয়েছেন, পরে ফোনে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। দ্বিতীয়বার ফের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে একই কথা জানানো হয়।
 
ফণীর জেরে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা ছিল, বাংলায় আশঙ্কার তুলনায় ঘূর্ণিঝড় অনেক কম গতিতে আঘাত হানায় তা হয়নি। যে সমস্ত বাড়ি ঘর ভেঙেছে, তা ইতিমধ্যেই সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। ফণীর তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যদি আরও বাড়ত, ভোটের উত্তেজনার মধ্যে তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও যে আরও বাড়ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।