ফের হামলা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিবালের উপরে। এবারে দিল্লিতে ভোট প্রচার করার সময় তাঁকে চড় মারল এক যুবক। অভিযুক্ত যুবককে পাল্টা মারধর করেন কেজরিবালের সমর্থকরা।

এ দিন ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির মোতিনগর এলাকায়। একটি হুডখোলা জিপে চড়ে প্রচার সারছিলেন কেজরিবাল। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন তিনি। স্বভাবতই জিপের গতি ছিল খুব কম। সেই সুযোগেই জিপের সামনের দিক থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক জিপে উঠে সজোরে চড় মারে কেজরিবালকে। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যাচ্ছিলেন কেজরিবাল। গাড়িতে থাকা অন্যরা তাঁকে ধরে ফেলেন। এর পরেই পাল্টা হামলাকারী যুবকের উপরে চড়াও হয় কেজরিবালের সমর্থকরা। ধৃতকে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

 

 

আপ শিবিরের অবশ্য দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি-সহ বিরোধীরা।  একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আপ। যদিও, হামলার সঙ্গে তাদের যোগ নেই বলেই দাবি করেছে পদ্ম শিবির। এমনকী, পুলিশি নিরাপত্তায় ঘাটতি ছিল বলেও মানতে নারাজ তারা। তবে ভোটের মধ্যে খোদ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর উপর এই হামলা রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।

পরে দিল্লি পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবকের নাম সুরেশ।  দিল্লির কৈলাশ পার্কে স্পেয়ার পার্টসের ব্যবসা রয়েছে তেত্রিশ বছর বয়সি ওই যুবকের। কিন্তু কেন সে এই হামলা চালাল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আপ দাবি করেছে, বিরোধীদের এই হামলা আম আদমি পার্টিকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। দিল্লিতে আগামী বারো মে ভোটগ্রহণ হবে।

কেজরিবালের উপরে হামলার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। পাঁচ বছর আগে এমনই এক রোডশোয়ের মাঝে তাঁকে চড় মেরেছিল এক অটোচালক। গত বছর দিল্লির সচিবালয়ের ভিতরে এক যুবক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর চোখেমুখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিঁটিয়ে দিয়েছিল। তার পরে কেজরিবালের সঙ্গে দেখা করতে আসা এক ব্যক্তির কাছে বুলেট পেয়েছিল পুলিশ। এ বছর জানুয়ারি মাসেই কেজরিবালের মেয়েকে অপহরণের হুমকি দিয়ে গ্রেফতার হন এক ব্যক্তি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেজরিবালের গাড়ির উপরে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এক দল বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে।