নমামি গঙ্গে, অর্থাৎ গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার প্রটারে বড় সাফল্যের মুখে মোদী সরকার। মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তরাখণ্ডে ছয় বড় প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। যা গঙ্গা নদীর জল দূষণমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাহলেই প্রস্তাবিত ৩০টি প্রকল্পের কাজই শেষ হবে। এছাড়াও ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে পথ চলা শুরু হবে প্রথম শুধুমাত্র গঙ্গার বিষয়ে একটি জাদুঘর। প্রকাশিত হবে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত গঙ্গার অববাহিকা নিয়ে লেখা একটি আকর্ষণীয় বইও।  

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে  ছয়টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলি হল - হরিদ্বারের জগজিৎপুরে ৬৮ এমএলডির নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্র নির্মাণ, সেখানেই বিদ্যমান ২৭ এমএলডি-র নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্রটির উন্নয়ন, সরাইতে একটি ১৮ এমএলডির নিকাশি কেন্দ্র নির্মাণ, ঋষিকেশের লক্কড়ঘাটে একটি ২৬ এমএলডির নিকাশী ব্যবস্তা কেন্দ্র, মুনি কি রেতি শহরে ৭.৫ এমএলডি-র নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্র এবং চোরপানিতে একটি ৫ এমএলডি নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্র। এমএলডি-র অর্থ হল মিলিয়ন লিটার পার ডে, অর্থাৎ নিকাশী কেন্দ্র গুলি প্রতিদিন কত মিলিয়ন লিটার দূষিত জল সাফ করতে পারে।  

এরমধ্যে মুনি কি রেতি শহরের ৭.৫ এমএলডি এসটিপি হবে দেশের প্রথম চারতলার নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্র। এখানে জমির অভাব ছিল। ৭.৫ এমএলডি ক্ষমতার একটি নিকাশী ব্যবস্থা কেন্দ্রের জন্য যে জমি লাগে তার থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ কম জমিতে এই কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। জায়গায় অভাব তলের সংখ্যা বাড়িয়ে পূরণ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির উদ্বোধনের সঙ্গ সঙ্গে গঙ্গা নদীর নিকটবর্তী উত্তরাখণ্ডের যে ১৭ টি শহরে দূষণের হ্রাসের জন্য যে ৩০টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, তার সবকটিই সম্পূর্ণ হবে।

এছাড়া, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধন হতে চলেছে 'গঙ্গা অবলোকনট-এর। গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে যে সংস্কৃতি, জীববৈচিত্র্য ও গঙ্গাকে পুনর্জীবিত করার জন্য যে সকল কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তা প্রদর্শনের জন্য এই প্রথম কোনও জাদুঘর তৈরি করা হল। জাদুঘরটি তৈরি করা হয়েছে হরিদ্বারের চণ্ডীঘাটে। এই জাদুঘরের সঙ্গে সঙ্গে 'রোইং ডাউন গঙ্গা' নামে ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত একটি বইয়ের উদ্বোধন-ও করবেন নকেন্দ্র মোদী। এই বইটিতে গঙ্গা নদীর জীববৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতিকে একীভূত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোমুখ থেকে কেউ যদি গঙ্গা বেয়ে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত নেমে আসে, তাহলে সে কী কী দেখতে পাবে, তার একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে।