মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুনেতে (Pune), পাঁচ বছর ধরে ১১ বছরের কিশোরীকে যৌন অত্যাচার করছিল তার নাবালক দাদা, বাবা, ঠাকুর্দা এবং এক দূর সম্পর্কের কাকা। কীভাবে সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা, কী বলল পুনে পুলিশ (Pune Police)? 

পাঁচ বছর ধরে যেন তার অবস্থান ছিল নরকে। এক ১১ বছরের কিশোরীকে তার নাবালক দাদা, এবং বাবা মিলে আলাদা আলাদা ভাবে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। শনিবার পুনে পুলিশ (Pune Police) জানিয়েছে কিশোরীর ঠাকুর্দা এবং এক দূর সম্পর্কের কাকাও, তাকে প্রায়শই শ্লীলতাহানি করত। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গত পাঁচ বছর ধরেই ওই তিন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নাবালক মিলে ওই কিশোরীর উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিল। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুলিশ, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে, ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে, ভারতীয় দণ্ডবিধির (Indian Penal Code) বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। তবে, এখনও অভিযুক্তদের কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী কিশোরীর নাবালক দাদা এবং ৪৫ বছর বয়সী বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের (Rape) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর, ঠাকুর্দা (বয়স আনুমানিক ৬০ বছর) এবং দূর সম্পর্কের কারার (বয়স প্রায় ২৫) বিরুদ্ধে মহিলার শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, এই কলঙ্কিত পরিবার আদতে বিহারের (Bihar) বাসিন্দা হলেও, নির্যাতিতা এবং অপরাধীরা সকলেই বর্তমানে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুনের (Pune) বাসিন্দা।

নির্যাতিতা নাবালিকা পুলিশকে জানিয়েছে, এই ঘটনার শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে, সেই সময় তারা বিহারে থাকত। বাবাই তার মেয়েকে যৌন নির্যাতন করা শুরু করেছিল। প্রায় একই সময়ে তার ঠাকুর্দা এবং এক দূর সম্পর্কের কাকাও তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করা শুরু করেছিল। আর ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে তার উপর যৌন নিপীড়ন শুরু করেছিল মেয়েটির দাদা। 

অপরাধ দমন শাখার পুলিশ ইন্সপেক্টর অশ্বিনী সাতপুতে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ওই নাবালিকার উপর অকথ্য অত্যাচার চলছিল। লোকলজ্জার ভয়ে, সেও মুখ বন্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু স্কুলে যখন তাদের 'ভাল স্পর্শ এবং খারাপ স্পর্শ'এর বিভেদ বোঝানো হচ্ছিল, সেই সময় সে আর থাকতে না পেরে গত পাঁচ বছরের অগ্নিপরীক্ষা সম্পর্কে মুখ খোলে। তবে, পুলিশের দাবি, সমস্ত ঘটনাই আলাদা আলাদাভাবে ঘটেছে। অভিযুক্তরা একে অপরের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত নাও থাকতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে গণধর্ষণের (Gang Rape) মামলা রুজু করা হয়নি। তবে, যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা বা পকসো (POCSO) আইনের ধারা যুক্ত করা হবে।