উপত্যকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাশ্মীর যাচ্ছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তবে একা রাহুল নন, তাঁর সঙ্গে বিরোধী দলগুলির আরও ন' জন নেতাও কাশ্মীরে যাচ্ছেন। বিরোধী নেতাদের মধ্যে যেমন কংগ্রেস নেতারা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর বেশ কিছুদিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে শ্রীনগর- সহ গোটা কাশ্মীর উপত্যকার। এই পরিস্থিতিতে, কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখাই রাহুলের উদ্দেশ্য। রয়েছেন, তেমনই ডি রাজা, সীতারাম ইয়েচুরির মতো নেতারাওও রয়েছেন। 

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কাশ্মীরের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন কংগ্রেস নেতা। যদিও, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতির মতো নেতারা এখনও কাশ্মীরে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। 

নিঃসন্দেহে কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের উপর চাপ বাড়াতেই রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধীদের এই কাশ্মীর সফর। যদিও তাঁদেরকে কাশ্মীরে ঢুকতে না দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করার অভিযোগও তুলতে পারবেন রাহুলরা। আর যদিও সরকার কোনও বাধা না দেয়, তাহলে কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বলে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়েও সরকারের উপরে ফের চাপ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে বিরোধীদের সামনে। 

রাহুল ছাড়াও এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা, গুলাম নবি আজাদ। এছাড়াও থাকছেন সিপিআই নেতা ডি রাজা, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং আরজেডি-র মনোজ ঝা।

এর আগে কাশ্মীর নিয়ে সমালোচনা করায় রাহুলকে উপত্যকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। সেই চ্যালেঞ্জই কার্যত গ্রহণ করলেন কংগ্রেস নেতা। শেষ পর্যন্ত রাহুল- সহ বিরোধীরা কাশ্মীরে ঢুকতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার। এর মধ্যেই জম্মু কাশ্মীর প্রশাসন কিন্তু জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে কাশ্মীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ফলে এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদেরই কাশ্মীরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, তাতে উত্তেজনা বাড়তে পারে।