বুধবার ভারতের সামরিক ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন দুপুরেই ফ্রান্স থেকে পাঁচটি রাফাল জেটের প্রথম ব্যাচটি ভারতে এসে পৌঁছেছে। প্রথম থেকেই রাফাল চুক্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। রাফালের ভারতে আগমনের দিনও সেই রাফালে চুক্তি নিয়েই নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেন তিনি। ছুঁড়লেন তিন-তিনটি প্রশ্নবান।

এদিন সন্ধ্যাবেলাই রাফালের ভারতে আগমন নিয়ে টুইট করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি ভারত সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন। প্রথম প্রশ্ন, 'কেন প্রতিটি যুদ্ধবিমানের জন্য ৫২৬ কোটি ডলারের বদলে ১৬৭০ কোটি ডলার করে খরচ হল?' দ্বিতীয় প্রশ্ন, 'কেন ১২৬টির পরিবর্তে মাত্র ৩৬টি বিমান কেনা হল?' তৃতীয় প্রশ্ন, 'কেন হ্যাল-এর পরিবর্তে দেউলিয়া অনিল (অম্বানি)-কে ৩০,০০০ কোটি টাকার চুক্তির বরাত দেওয়া হয়েছিল?'

এর আগে, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে অন্তত ৫৯,০০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৈরি করেছিলেন 'চৌকিদার চৌর হ্য়ায়' স্লোগান। তবে সেই প্রচারের বিশেষ ফল যে হয়নি, তা কংগ্রেসের মাত্র ৫২ টি লোকসভা আসন জয়েই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি রাফাল নিয়ে রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা খেতে হয়েছে আদালতেও। সুপ্রিম কোর্টে তিনি রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের আবেদন করেছিলেন। ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল আদালত।

তবে এটাও ঠিক, এদিনের তোলা তিন প্রশ্ন, অনেকদিন ধরেই সরকার-কে করেছেন এই বিরোধী নেতা, সরকার কিন্তু কোনও উত্তর দিতে পারেনি। সরকারকে এই তিন প্রশ্নে বিদ্ধ করলেও, রাহুল গান্ধী কিন্তু, রাফালের অন্তর্ভূক্তির জন্য ভারতীয় বায়ুসেনা বাহিনী (আইএএফ)-কে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি।