করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে দেশজুড়ে চলছএ লকডাউন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল দেশের কল-কারখানা, অফিস-কাছারি। যার ফলে একেবারে খাদের ধারে চলে গিয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। চরম সংকটে দেশের সাধারণ মানুষ ও গরিবরা। কর্মসংস্থানের ও অন্নের অভাব ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। লকডাউনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে কীভাবে এর মোকাবিলা করা সম্ভব, সেই চিন্তাই এখন ভাবাচ্ছে সকলকেষ কীভাবে লকডাউনের পর দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখা যায় তা নিয়ে ভাবছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। 

গত সপ্তাহেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। করোনার কারণে লকডাউনের প্রভাব থেকে দেশের গরীব মানুষকে বাঁচাতে ৬৫,০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ প্রয়োজন বলে জানান রাজন। দেশের বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি  এবং যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ভারতকে লকডাউন তুলতে হবে বলে জানান প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর। আর দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কীভাবে অর্থনীতিকে পুনরায় দাঁড় করানো যায় তা নিয়ে এবার নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ নিলেন কংগ্রেস নেতা। 

 

 

মঙ্গলবার কংগ্রেসের তরফে ট্যুইট করা একটি ভিডিও ক্লিপে রাহুলকে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।  কংগ্রেসের শেয়ার করা সেই ভিডিওতে  নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বলেছেন, দুটি পথ আছে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ও বিভিন্ন সংস্থাকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানোর। প্রথমত, এই ধরণের সংস্থাগুলির ঋণ ফেরত দেওয়ার সময়সীমা শুধু পিছিয়ে দিলে হবে না, একেবারে মকুব করে দিতে হবে। যাতে ব্যবসায়ীর মাথার ওপর থেকে চাপ সরে যায়। পাশাপাশি, নগদ টাকা পৌঁছে দিতে হবে সাধারণ মানুষের হাতে।

 

তাঁর এই যুক্তির স্বপক্ষে অর্থনীতিবিদ বলেন, 'ধরে নিন, লকডাউনে আপনার টাকা নেই, আপনার দোকান বন্ধ। স্বাভাবিকভাবে আপনি নতুন কিছু কিনবেন না। তাহলে অন্য একটি দোকানও এভাবে বন্ধ হয়ে থাকবে। তাঁরও ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। তাই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মানুষের হাতে টাকা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তাঁরা কিনতে শুরু করেন, এবং অর্থনীতি কাজ করতে শুরু করে।'

রেকর্ড গড়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের শিকার ৩৯০০, আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬ হাজারের বেশি

বোতলের জন্য লম্বা লাইন, সুযোগ বুঝে ৭০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে দিল সরকার

লকডাউনের দেশে রেশনের থেকেও লম্বা লাইল মদের দোকানে, সামাজিক দূরত্ব না মেনেই জমায়েত

এদিন খাদ্য, রেশন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়েও একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। লকডাউনের জেরে দারিদ্র মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান নোবেল জয়ী। তাঁর মতে, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্যাকেজের ব্যবস্থা হোক। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা জরুরি। অনেকেই হাতে টাকা পাচ্ছেন না। তাই তাদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যেমে টাকা পাঠাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খাদ্যই সকলের জন্য বড় ইস্যু। তাই প্রত্যেক ৩ মাসের জন্য সাময়িক রেশন কার্ড। দেশে সবার কাছে রেশন কার্ড নেই। এই পরিস্থিতিতে সবাই যাতে রেশন পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

লকডাউনের প্রথম থেকেই দেশের অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে বার বার সোচ্চার হয়েছিলেন সোনিয়া পুত্র তথা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। বেশ কয়েকবার ভিডিও কনফারেন্স করে অর্থনীতি ঘাটতি কমাতে কেন্দ্রকে বেশ কিছু পরামর্শ দেন তিনি। এবার দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি। তবে  তাঁদের এই আলোচনা কেন্দ্র কতটা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার।