দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ অস্বীকার করার পর সোমবার রাজস্থানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মেনে নিয়েছে, গত বছর রাজস্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজনের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। রাজ্য বিধানসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এই কথা জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কাদের ফোন ট্যারপ করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে কিছু না জানানো হলেও, এই স্বীকারোক্তিকে কেন্দ্র করে বিজেপি নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেছে, গত বছর রাজস্থান কংগ্রেসে যখন বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল, সেইসময়ই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। এই নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে তারা।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য রাজ্য বিধানসভায় এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিধায়ক বা সাংসদের ফোন ট্যাপ করা হয়নি। এই বিষয়ে গত বছরই রাজ্য বিধানসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি বিধায়ক কালিচরণ। গত বছর শচিন পাইলট এবং আরও ১৮ জন কংগ্রেস বিধায়ক অশোক গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। এরপর  ১৪ আগস্ট আস্থাভোট হয়। সেই অধিবেশনেই কালীচরণ প্রশ্ন করেছিলেন, গত কয়েকদিনের মধ্যে কারোর ফোন ট্যাপ করা হয়েছে কি না, যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে তা কোন আইনে এবং কার আদেশে করা হয়েছিল?

এতদিন পর এর জবাবে সেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগ জানিয়েছে, জনগণের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল। ১৮৮৫ সালের ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন ২০০৭ সালের ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন (সংশোধনী) এবং ২০০০ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা মেনে, উপযুক্ত কোনও কর্মকর্তার অনুমোদনের পরই এই কাজ করা হয়েছে, বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যত ফোন ট্যাপ করা হয়েছে, তার সবগুলিই রাজ্যের মুখ্যসচিব পর্যালোচনাও করেছেন।

কোনও বিশেষ ব্যক্তির ফোন ট্যাপ করা হয়েছিল কি না, তাই নিয়ে বিজেপি বিধায়ক কালিচরণও কোনও প্রশ্ন করেননি, সরকারের পক্ষ থেকেও আগ বাড়িয়ে তা জানানো হয়নি। তা সত্ত্বেও এই বিষয়টি নিয়ে গেহলট সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে তারা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখওয়াত নিজেই একাধিক টুইট করে, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দলীয় বিদ্রোহ সামাল দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনা গোপনীয়তার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রের হত্যা, বলে অভিযোগ করেছেন শেখাওয়াত। রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি সতীশ পুনিয়া এই বিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।