নব্বইয়ের দশকের বাবা মায়েয়া জানেন, ছোটদের প্রিয় টিভি ধারাবাহিক শক্তিমান কী সাংঘাতিক প্রভাব ফেলেছিল শিশুমনে। বারবার ভয়াবহ কসরত করতে গিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হচ্ছিল। সেই দিন গিয়েছে। এবার এসেছে আরও ভয়াবহ দিন। শিশুরা এখন অনলাইন গেমের ফাঁদে পড়েছে। প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়েছে পাবজি খেলতে গিয়ে মৃত্যু শিশুর।

সাম্প্রতিক কালে এমন দুটি ঘটনা নজরে আসার পরেই নড়েচ‌ড়ে বসেছে রাজস্থান সরকার।  সংবাদসংস্থাকে রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়ছেন, আমরা বিষয়টিকে খতিয়ে দেখছি। ইতিমধ্যেই একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বিপজ্জনক অনলাইন গেমগুলি। 

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যই গুজরাটে নিষিদ্ধ হয়েছে পাবজি-র মতো বিপজ্জনক গেম। কমিটি রিপোর্ট দিলে বন্ধ হয়ে এই রাজ্যেও যেতে পারে পাবজি।  এই কমিটিতে রাখা হয়েছে একজন শিক্ষাবিদ, একজন মনস্তত্ত্ববিদ এবং অন্য কয়েকজনকে। 

প্রসঙ্গত টিকটকে মঙ্গলসূত্র পরার একটি ভিডিও সম্প্রচার করতে গিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির একটি ছাত্রী কুশল রাজস্থানে মারা যায় গত মঙ্গলবার। মেয়েটির অসহায় বাবা বলেন, আমার মেয়ের ফোনে এই অ্যাপ্লিকেশনটি না থাকলে আমার মেয়েটি দীর্ঘকাল বাঁচতো হয়তো। তার আগের মাসেই ফারুক কুরেশি নামক ১৬ বছর বয়েসি একটি ছেলে পাবজি খেলতে খেলতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ব্লাস্ট ব্লাস্ট বলে চিৎকার করার সময় সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়।
বলাই বাহুল্য দু'টি ঘটনাতেই দায় ঝেড়ে ফেলে টিকটক বা পাবজির মতো সংস্থা।

পরপর এই ধরনের ঘটনাগুলির সামনে দাঁড়িয়ে এবার সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে রাজস্থান। প্রশ্ন হল, বাংলা কবে এই ধরনের সদর্থক পদক্ষেপ নিতে পারবে?