বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছিলেন গুজরাতের কংগ্রেসের দুই বিধায়ক। ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই আরও এক বিধায়ক পদত্যাগ করলেন। বিধানসভা সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে স্পিকার রাজেন্দ্র ত্রিবেদী, মুরবি আসন থেকে নির্বাচিত বিধায়ক ব্রিজেশ মেরজার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। বিধায়ক পদ ছাড়ার আগে মেরজা কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে ১৯ জুনের রাজ্যসভা নির্বাচনে গুজরাতের চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসন জেতার আর কোনও সম্ভাবনা রইল না কংগ্রেসের।

মেরজাকে নিয়ে গত মার্চ মাস থেকে আটজন কংগ্রেস বিধায়ক বিধানসভার সদস্যপদ ছাড়লেন। মার্চ মাসে, রাজ্যসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরপরই পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়ক পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন। আর গত ২৪ ঘন্টায় বিধায়ক পদ ও দল ছাড়লেন আরও তিনজন বিধায়ক। ফলে কংগ্রেসের এই রাজ্য থেকে দ্বিতীয় রাজ্যসভা আসনের জেতার সম্ভাবনা এখন আর নেই বললেই চলে।

পদত্যাগী কংগ্রেস বিধায়ক ব্রিজেশ মেরজা

১৮২ সদস্যের গুজরাত বিধানসভায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হাতে রয়েছে ১০৩ জন বিধায়ক। বিরোধী কংগ্রেসের হাতে এখন রয়েছে ৬৬ জন বিধায়ক। এছাড়া ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির ২ বিধায়ক এবং এনসিপি-র একজন বিধায়ক আছেন। নির্দল হিসেবে একটি আসন রয়েছে জিগনেশ মেভানির হাতে। আর নয়টি আসন আপাতত ফাঁকা - নির্বাচন সংক্রান্ত সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আদালতের মামলাধীন দুটি আসন এবং বিধায়কদের পদত্যাগের কারণে বাকি সাতটি।

রাজ্যসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৬ মার্চ তারিখে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির এবং লকডাউনের কারণে তা পিছিয়ে ১৯ ই জুন করার কথা জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গুজরাতের যে চারটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন হবে, বর্তমানে তারমধ্যে তিনটি রয়েছে বিজেপির হাতে, বাকি একটি রয়েছে কংগ্রেসের হাতে। এবারকের নির্বাচনে কংগ্রেসের দুটি আসনে জেতার সম্ভাবনা ছিল। সেইমতো তারা দু'জন প্রার্থীই দিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে তিনজন। একটি আসনে জেতা নিশ্চিত হলেও, বিধায়কদের পদত্যাগের কারণে কংগ্রেসের পক্ষে আরেকটি আসনে জেতাটা এখন কঠিন নয়, অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ রাজ্যসভার তিনটি আসন ধরে রাখতে ছলে-বলে বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরাচ্ছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির স্বাভাবিকভাবেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্টির কারণেই পদ ও দল ছাড়ার মিছিল লেগেছে কংগ্রেস বিধায়কদের।