দ্বিতীয়বারের জন্য নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে গো-চর্চায় জোয়ার এসেছে । গোমূত্র থেকে ফিনাইল হেলথ ড্রিঙ্ক, গোবর থেকে সাবান, শ্যাম্পুর মতো বিভিন্ন পন্য তৈরি হচ্ছে। এই তালিকায় নবতম সংযোজন গোবর দিয়ে তৈরি রাখি! উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলায় স্থানীয় শ্রীকৃষ্ণ গোশালার তৈরি এই পন্যই রাখির বাজার মাতাতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। 
 
জানা গিয়েছে সম্পূর্ণ ভাবনাটাই শ্রীকৃষ্ণ গোশালার কর্ণধার অলকা লাহোটিয়ার। ৫২ বছরের অলকা আগে ইন্দোনেশিয়ায় একটি সংস্থায় কাজ করতেন। পরবর্তীতে তাঁর বাবার গোশালার দেখভাল করার জন্য দেশে ফিরে আসেন। বিজনৌর জেলার নাগিনা গ্রামে তাঁদের গোশালাটি অবস্থিত। সেখানেই তৈরি হচ্ছে অভিনব এই রাখিগুলি।  
  
তবে এই প্রথম নয়, এর আগে কুম্ভ মেলার সময়ও এই গোবরের রাখি বিক্রী করা হয়েছিল। সেই সময় এই উদ্যোগ মানুষ খুব ভালভাবে গ্রহণ করেছিল। সেখানেই সাধু-সন্ন্যাসীরা অলকা লাহোটিয়াকে আমজনতার জন্যও গোবরের রাখি বানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই মতোই এই বার রাখির মরশুমে বিজনৌরে শ্রীকৃষ্ণ গোশালায় তৈরি হচ্ছে কয়েক হাজার গোবরের রাখি।  
 
অলকা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি ছাঁচ তৈরি করা হয়। তারপর সেই ছাঁচে ঢেলে আকার দেওয়া হয় গোবরের তালকে। শুকিয়ে গেলে সেগুলিকে শীতল কোনও স্থানে রাখা হয়, যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। তারপরে সেই শুকনো গোবরের তালকে ভেষজ রঙ এবং রেশমের সুতো দিয়ে রাখির আকার দেওয়া হয়। পরিবেশ-বান্ধব এই রাখিগুলি কিন্তু ফেলে দেওয়ার পর সম্পূর্ণভাবে মাটিতে মিশে যাবে বলেই দাবি নির্মাতাদের। 

শ্রীকৃষ্ণ গোশালার এই রাখির খ্যাতি বিজনৌর ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য রাজ্যেও। অলকা জানিয়েছেন, গোটা রাজ্য থেকেই তিনি গোবরের রাখি বানানোর বরাত পেয়েছেন। এমনকী কর্ণাটক, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যেও যাচ্ছে তাঁদের রাখি। 
 
তবে গোবরের তৈরি রাখি ভাই-বোনদের আদৌ মনে ধরে কিনা সেই আশঙ্কাও রয়েছে। তবে অলকা লাহোটিয়া অতশত ভাবছেন না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি একটিও বিক্রী না হয়, তাহলে তিনি বিনামূল্যেই গোটা বিজনৌরে বিলিয়ে দেবেন তাঁর অভিনব এই কীর্তি।