১৩ জানুয়ারি থেকে ভারতে শুরু হতে পরে টিকাকরণ। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। রবিবার দু-দুটি কোভিড ভ্যাকসিন-কে ভারতের জরুরি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওযাকর পর থেকেই এই বিষয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এদিন সরকার বলেছে, জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদনের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ভারতব্যাপী কোভিড -১৯ ভ্যাকসিনের টিকাককরণ অভিযান শুরু করা যেতে পারে।

সরকার জানিয়েছে গত ২ জানুয়ারি সারা দেশে যে টিকাকরণের মহড়া হয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছে, সব মসৃণভাবে চলছে। সেই মহড়ার ভিত্তিতেই এই সময়সীমা জানানো হল। সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র কোভিডশিল্ড এবং ভারত বায়োটেকের কোভাক্সিন, দুটি টিকাকেই জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল গত ৩ জানুয়ারি। তারপর থেকে ১০ দিন ধরলে ১৩ জানুয়ারি তারিখটি পাওয়া যাচ্ছে। তাই মনে করা হচ্ছে ওই দিন থেকেই ভারতে করোনার টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে।

দেশের করোনভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সচিব, রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন দেশে সক্রিয় মামলার সংখ্যা আড়াই লক্ষের নিচে নেমে গিয়েছে এবং এই নিম্নগামী ধারা এখনও অব্যাহত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনা পজিটিভ হওয়ার হার বর্তমানে মাত্র ১.৯৭ শতাংশ। দেশে চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৪ শতাংশের মধ্যে মাঝারি বা মারাত্মক উপসর্গ রয়েছে। তাঁদের সকলেরই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বাকি ৫৬ শতাংশই খুব হালকা উপসর্গ রয়েছে বা একেবারে উপসর্গহীন। তাঁরা বাড়িতে স্ব-বিচ্ছিন্নতায় রয়েছেন।

তবে এই এত সুখবরের মধ্যেও চিন্তার মেঘ যাচ্ছে না ইশান কোন থেকে। ভারতে ক্রমে চাপ বাড়ছে যুক্তরাজ্যে পাওয়া নতুন অতি সংক্রামক করোনা রূপান্তর সংক্রমণের চাপ। সোমবার কেন্দ্রী. স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতে এই নতুন করোনা রূপান্তর পাওয়া গিয়েছে ৩৮ জনের দেহে। একদিন পরই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮-এ। তবে এখনও এই নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর যে সামগ্রিক বোঝা চেপেছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলেও জানানো হয়েছে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।