মঞ্চে ওঠার সময় একবার। মোদী বক্তব্য শেষ করার পর একবার। আবার ট্রাম্প বক্তব্য শেষ করার পর একবার। তিন-তিনবার নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন। এমনই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ ছিল 'নমস্তে ট্রাম্প'-এর মঞ্চে। কিন্তু একবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অস্বস্তিতে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কথা বলছিলেন সন্ত্রাসবাদ দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সহযোগিতার কথা। ট্রাম্প বলেন চরমপন্থী ইসলামী সন্ত্রাসবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে দুই দেশই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বলেন ইরাক-সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের কথা। আসে আল বাগদাদী খতমের প্রসঙ্গ-ও। এই কথা প্রসঙ্গেই ট্রাম্প আসেন পাকিস্তানের কথায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এদিন ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে দাবি করেন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও জঙ্গিদের দমন করতে পাকিস্তানের সঙ্গে একান্ত ইতিবাচক পথে কাজ করছেন।

এরপরই ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের মঞ্চ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই ভাল। আর তার জন্যই তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দমনে বড় অগ্রগতির লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে আমেরিকা। ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা হ্রাস করার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর স্থিতিশীলতা আনতে চায় আমেরিকা। আর সেই কাজে অন্যতম শক্তি হিসেবে ভারতের সহায়তা চায় আমেরিকা।

ইতিমধ্যেই পাক সংবাদমাধ্যমগুলিতে গোটা অনুষ্ঠানের নির্যাস হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের এই অংশটুকুকেই তুলে ধরা শুরু হয়ে গিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্যে পাকিস্তানি প্র্ধানমন্ত্রীর মুখে হাসি ফুটতে বাধ্য। সদ্য এফএটিএফ-এর কাছে ফের বকুনি খেতে হয়েছে। কতারপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের শংসাপত্র্ ইমরান খানের কাছে অক্সিজেনের মতো।

এরকমটা যে হতে যাচ্ছে তার আভাস আগেই মিলেছি। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছিল যাতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা হ্রাস করা যায় সেরকম কথাই ট্রাম্প বলবেন। জনসমক্ষেও বলবেন, মোদীর সঙ্গে নিভৃতেও বলবেন।