দুজনেই দুই রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট নেত্রী। অনেকদিনের সাংসদ। তারাই সোমবার নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়লেন। এদিনই সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় ভাগ শুরু হল। আর প্রথম দিনই দিল্লির হিংসার প্রসঙ্গ উঠতেই চূড়ান্ত ডামাডোল বাধল সংসদে। যার কারণে সারাদিন বারেবারে স্থগিত করতে হল সভার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুরো দিনের মতোই সভার কাজ ভন্ডুল হয়ে গেল। এই নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সব গলের বরিষ্ঠ নেতাদের সংসদের মানরক্ষায় ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেছেন।

এদিন, কংগ্রেস সাংসদ রম্যা হরিদাস অভিযোগ করেন, বিজেপি সাংসদ জসকৌর মিনা তাঁকে দাক্কা মারেন। তাঁর দাবি, এদিন ২টোয় সভার কাজ স্থগিত করে দেওয়ার পর, বিকেল তিনটায় অধিবেশন ফের শুরু হলে তিনি দিল্লির হিংসার বিষয়টি সভায় তোলার জন্য হাউসের ওয়েলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।  সেই সময়ই বিজেপি সাংসদ মিনা তাঁর কাঁধে আঘাত করেন। সংসদ আর মহিলাদের জন্য সংসদ নিরাপদ নয় বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস সাংসদ। সেই সঙ্গে তিনি দলিত হওয়াতেই তাঁকে ধাক্কা মারা হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন। এই বিষয়ে তিনি লিখিতভাবে ওম বিড়লার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।  

জসকৌর মিনা পাল্টা দাবি করেছেন, কংগ্রেস সাংসদদের অভিযোগ ভুয়ো। বরং রম্যা হরিদাস-ই তাঁকে আঘাত করেছেন। তিনি বলেন, রম্যা একটি ব্যানার নিয়ে ওয়েলের দিকে এগোচ্ছিলেন। সেটি খুলতে গিয়ে মিনার মাথায় আঘাত লাগে। তিনি ব্যানরটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন রম্যা-কে সেখান থেকে শুধু সরে যেতে বলেছিলেন, ধাক্কা মারেননি বা আঘাত করেননি। আর তিনি নিজেও একজন দলিত মহিলা, তাই রম্যা দলিত বলে তাঁকে মারা হয়েছে, এই অভিযোগ খাটে না।

পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, রম্যার ব্যানারের ধাক্কায় জসকৌর মিনা মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন। স্মৃতির অভিযোগ জসকৌর দলিত সাংসদ হওয়াতে তাঁকে উত্তেজিত করতেই ধাক্কা মারেন রম্যা। তিনি স্পিকারের কাথে সম্ভাব্য কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেন।

স্পিকার ওম বিড়লা অবশ্য পুরো ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে যন্ত্রনা দিয়েছে। এই অবস্থায় সভার কাজ চালাতে চান না বলে জানিয়ে দেন স্পিকার। যদি ঠিক মতো সভার কাজ চালানো যায়, গণতন্ত্র রক্ষা করা যায়, তবেই অধিবেশন করা উচিত।  

এদিন সারাদিনে তিনবার সভার কাজ স্থগিত করে দিতে হয়েছে। প্রথমে জেডিইউ সাংসদ বৈদ্যনাথ প্রসাদ মাহাতোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কাজ স্থগিত রাখা হয়। পরে ২টোয় সবার কাজ শুরু হতেই দিল্লির হিংসা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধীরা শুরু হয় বাকবিতন্ডা। এরপর আরও দুবার সভার কাজ বন্ধ রেখে ফের শুরু করেও পরিস্থিতি বদলায়নি। তাই সাড়ে চারটের সময়ই সভা মুলতুবি করে দিতে হয়।