ক্রমে ছোট হয়ে আসছে বৃত্ত। যেন মোদী সরকারকে ঘিরে ধরছে করোনাভাইরাস মহামারি। বিদেশ মন্ত্রক, নীতি আয়োগ, আইসিএমআর - একের পর এক মন্ত্রক ও সরকারি ভবনে  হানা দিচ্ছে এই ভাইরাস। বুধবার তা পৌঁছে গেল একেবারে সচিব পর্যায়ে। এদিন আইন মন্ত্রকের আইন বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব-এর কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এল। যা জেরে এদিন শাস্ত্রী ভবনের চতুর্থ তলের একাংশ সিল করে স্যানিটাইজেশনের কাজ শুরু করা হল।

জানা গিয়েছে, ওই অফিসার শেষ অফিসে এসেছিলেন ২৯ মে। তারপর থেকেই শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা যাওয়ায় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। সেইসঙ্গে তাঁর করোনাভাইরাস পরীক্ষাও করা হয়। এদিন আইন মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, ওই সচিবের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগে আসা অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী, ও অন্যান্য ব্যক্তিদের ১২ জুন অবধি স্ব-বিচ্ছিন্নতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথমদিকে কোনও অফিসে একজনের করোনা ধরা পড়লেই পুরো ভবনটিই সিল করে স্যানিটাইজ করা হচ্ছিল। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রক নিয়ম পাল্টে জানায় পুরো ভবন সিল করার প্রয়োজন নেই। সেই নয়া বিধি মেনেই শাস্ত্রী ভবন পুরো বন্ধ না করে শুধুমাত্র চতুর্থ তলের 'এ ' এবং 'ডি' উইং বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ধরে জীবাণুমুক্ত করা হবে। শাস্ত্রীভবনের চতুর্থ তলে, আইন মন্ত্রক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি মন্ত্রক ও বিভাগ রয়েছে। তাদের কর্মীদের সম্ভব হলে এই দুদিন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মে মাসেও আইন মন্ত্রকের আইন বিষয়ক বিভাগের একজন উপ-সচিব কোভিড-১৯ ইতিবাচক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। তবে এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হলেন। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রকের জটিল আইনী বিষয়ে পরামর্শ দেয় আইন মন্ত্রক। আর আইন মন্ত্রকের মূল নথির খসড়াগুলি তৈরি করে এই আইন বিষয়ক বিভাগ। কাজেই এই বিভাগ কাজ করতে না পারলে দারুণ সমস্য়ার মুখে পড়বে সরকার।