আমফানের দাপটে পশ্চিমবঙ্গের যা অবস্থা হয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ আছড়ে পড়ায় ততটা খারাপ হল না মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রের অবস্থা। এখনও পর্যন্ত একজনেরই মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আর আহত আরও সাতজন। বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপরে গিয়েছে, চাল উড়ে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ির। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অল্পই বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

দেশের মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। সেই পরিস্থিতি আরও বিগরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের আগমনবার্তায়। বুধবার বেলা ১টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের আলিবাগের কিছুটা দক্ষিণে স্থলভাগে প্রবেশ করে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন সেই সময়  ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। আর মুম্বই শহরে ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার ছিল ঝড়ের গতি।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্রে রায়গড় জেলা। এই জেলায় অন্তত ৮৫টি গাছ পড়েছে এবং ১১টি বিদ্যুতের খুঁটি উপরে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তারা। এখানেই একটি বিদ্যুতের খুঁটি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ বছরের এক প্রৌঢ়র। এছাড়া রত্নাগিরি জেলায় চার জন আহত হয়েছেন।

মুম্বই শহরেও বেশ কয়েকটি রাস্তা আটকে গিয়েছে গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে। সান্টাক্রুজ এলাকায় ভেঙে পড়ে একটি নির্মীয়মান বাড়ির চাঙড়, তাতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ঝড়ের দাপট কতটা ছিল, তা বোঝা গিয়েছে একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজী বিমানবন্দরে নামার সময় ঝড়ের ধাক্কায় রানওয়ে থেকে ছিটকে এগিয়ে যায় ফেডএক্স সংস্থার একটি মালবাহী বিমান। তবে তাতে বিমানবন্দরে কোনও ক্ষতি হয়নি। সেটি কোনও ভবনে ধাক্কা মারার আগেই থেমে গিয়েছিল। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এদিন দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬চা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল সেখানে। পরে আবার চালু হয়েছে বন্দরের কাজকর্ম।     

বিভিন্ন জায়গায় উপরে যাওয়া গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে কাজে নেমে পড়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। খুব তাড়াতাড়িই এই দুর্যোগের চিহ্ন সরিয়ে দেওয়া যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখনও ঝড়ের দাপট আর নেই বললেই চলে। কিন্তু, আগামী কয়েক ঘন্টা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হবে মুম্বই এবং গুজরাত - দুই রাজ্যেই, জানিয়েছে দিল্লির মৌসম ভবন।