এতদিন বেশ গড়গড়িয়েই চলছিল শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের মহা বিকাশ আগাড়ি জোট। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনেও জোট হিসেবে লড়ে বিজেপি-কে হারিয়ে দিয়েছে সেই জোট। কিন্তু লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-এর পক্ষে শিবসেনা ভোট দেওয়ায় কিছুটা হলেও থমমকেছিল তাদের মসৃণ গতি। তবে রাজ্যসভায় তারা ভোট দেওয়ার আগে ওয়াকআউট করায় ফের ট্র্যাকে ফিরে এসেছে তিন চাকার গাড়ি। তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ক্রমশ কি কংগ্রেসি হয়ে উঠছে শিবসেনা? তাদের নেতা সঞ্জয় রাউত অবশ্য এই দাবি মানতে নারাজ।

লোকসভায় বিলটির পক্ষেই ভোট দিয়েছিল শিবসেনা। তবে রাজ্যসভায় ভোটাভুটির আগেই তাঁদের দলের তিন সাংসদই  কক্ষত্যাগ করেন। অনেকেই একে শিবসেনার ইউ-টার্ন হিসাবে দেখলেও রাউতের দাবি, সরকার এই বিল নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের সন্তোষজনক জবাব না দেওয়াতেই তাঁরা এই রাস্তা নিয়েছেন।

শিবসেনা লোকসভায় বিলটি সমর্থন করার পরই  কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে শিববসেনার নাম না করে ঘুরিয়ে তাদের পদক্ষেপে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। টুইট করে বলেছিলেন, 'সিএবি ভারতীয় সংবিধানের উপর আক্রমণ। যাঁরাই এই বিলকে সমর্থন করছেন, তাঁরা আমাদের দেশের ভিত্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন।' তাতেই শিবসেনার এই অবস্থান পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

এরপরই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেছিলেন, লোকসভায় তাঁদের তোলা প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সেনা রাজ্যসভায় বিলটি সমর্থন করবে না। তাহলে কি এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের জোটই শিবসেনাকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করল? রাউত অবশ্য এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি এটা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁদের সিদ্ধান্ত।

লোকসভায় বিতর্কিত বিলটির পক্ষে ভোট দিলেও শিবসেনা রাজ্যসভায় এর বিরোধিতা করে বলেছে, খসড়া আইনটি 'ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানবতার ভিত্তিতে' করা উচিত ছিল। শিবসেনার এই হৃদয় পরিবর্তনে কংগ্রেস দল যে খুশি তা গোপন করেননি বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। বুধবার সংসদ থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, শিবসেনা বিলের পক্ষে ভোট না দেওয়ায় কংগ্রেস অবশ্যই খুশি।

তবে রাজ্যসভায় সেনার সাংসদদের অনুপস্থিতি আখেরে বিলটি পাস হওয়ার পথই সুগম করে। মোট ১৬জন সাংসদ বুধবার এই বিল নিয়ে ভোটাবুটিতে বিরত থেকেছেন। তাতে বিল পাস করার ম্যাজিক সংখ্যা অনেকটাই নেমে এসেছিল। এই নিয়ে শিবসেনাকে বিধতে ছাড়েননি মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতারা।

আগাড়ির আরেক সঙ্গী এনসসিপি অবশ্য সেনার এই পদক্ষেপকে স্বাগতই জানিয়েছে। তবে তাঁদের দুই রাজ্যসভার সাংসদও বুধবার অনুপস্থিত ছিলেন। এই  নিয়ে এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল বলেন, ওই দুইজনের একজন অসুস্থ, আরেকজন আত্মীয়র বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সংসদে আসতে পারেননি।