পাল্টে যেতে পারে দেশের নাম। আমাদের দেশের সংবিধানের আর্টিকল ১-এ দেশের নাম ও এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেখানে দেশের নাম বলা হয়েছে, 'ইন্ডিয়া দ্যাট ইস ভারত'। বাংলা করলে দাঁড়ায় 'ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত'। অর্থাৎ দেশের দুটি নাম রয়েছে। এই দুটি নামের মধ্য থেকে ইন্ডিয়া নামটি ছেঁটে ফেলার আবেদন উঠেছে। মঙ্গলবার থেকে এই বিষয়ে মামলা শুরু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে।    

এই মামলার আবেদন করেছেন দিল্লির এক বাসিন্দা। তিনি তাঁর আবেদনে সংবিধানের প্রথম ধারাটিই সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইন্ডিয়া নামটি পুরোপুরি ছেঁটে ফেলে, দেশের একমাত্র নাম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক 'ভারত' বা 'হিন্দুস্তান'। কারণ 'ইন্ডিয়া' নামটি ব্রিটিশদের দাসত্বের প্রতীক। ২০০ বছরের দাসত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বস্তুত ব্রিটিশ শাসনের করায়ত্ব থেকে ভারত যখন স্বাধীনতা পেয়েছিল সেই সময় সংবিধান গঠনের জন্য যে গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল, সেই গণপরিষদেও এই দেশের নাম বাছাই নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। ইন্ডিয়া নামটি ছিল ব্রিটিশ শাসকদের দেওয়া। তাদের আগে ভারতে বৃহত্তম সাম্রাজ্য ছিল মুঘলদের। মুঘল শাসকরা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বলত হিন্দুস্তান।

ভারত, ইন্ডিয়া না হিন্দুস্তান - স্বাধীন দেশের জন্য কোন নামটি গ্রহণ করা হবে এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক বেধেছিল গণপরিষদের সদস্যদের মধ্যে। শেষে সদস্যরা ভারত ও ইন্ডিয়া, দুটি নাম গ্রহণ করেছিল। নাম পরিবর্তনের পক্ষে তাঁর দাবির সমর্থনে এই গণপরিষদের বিতর্ক-ও উদ্ধৃত করেছেন দিল্লির ওই আবেদনকারী। সেইসঙ্গে বিশ্বের আর কোথায় কোথায় দীর্ঘ বছর পর নাম পরিবর্তিত হয়েছে সেইসবের উল্লেখও করেছেন।

এর আগে ২০১৪ সালে, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ লোকসভায় একটি বিল উপস্থাপন করে 'ইন্ডিয়া' নামটির জায়গায় 'হিন্দুস্তান'-কে দেশের প্রাথমিক নাম হিসাবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর বিলে সংবিধানের প্রথম ধারা সংশোধন করে 'ভারত অর্থাৎ হিন্দুস্তান, একটি যুক্তরাষ্ট্র হবে' এই বয়ান লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।