নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে জ্বলছে গোটা উত্তরপ্রদেশ। শুধুমাত্র শুক্রবারই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছ' জনের মৃত্যু হয়েছে।  শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহের রাজ্য গুজরাটেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। রাজকোটে নতুন বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশেও ৫২টির মধ্য ৫০টি জেলাতেই ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। ফলে, হিংসাত্মক বিক্ষোভ ক্রমেই দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে। 

গত কয়েকদিন ধরেই নয়া আইনের প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ ছড়াচ্ছিল। এ দিন তা চরম আকার ধারণ করে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি আইনশৃঙ্খলা পি ভি রামশাস্ত্রী জানিয়েছেন, বিজনোরে দু' জন এবং ফিরোজাবাদ, কানপুর নগর, মিরাট এবং সম্ভল- এ একজন করে বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই মৃত্যুর ঘটনা এবং বিক্ষোভকে ষড়যন্ত্র বলেই দাবি করেছেন ওই পুলিশকর্তা। 

এ দিনের ঘটনার পর অন্তত দুশো বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আটক করা হয়েছে ৩৩০৫ জনকে। পাশাপাশি গাজিয়াবাদে শনিবার সকাল দশটা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে শনিবার সন্ধে ছ'টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট। বিক্ষোভে এ দিন ফের উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী দিল্লিও। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ দিন ফের একবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিবৃতি জারি করে মন্ত্রক জানিয়েছে, পুরনো কাগজপত্র বা তথ্যপ্রমাণ দেখিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কাউকেই হয়রান বা হেনস্থা করা হবে না। নিরক্ষরদেরও স্থানীয় সাক্ষী বা প্রমাণ দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে বলে টুইট করে জানিয়েছেন মন্ত্রকের এক কর্তা। 

দেশের অন্যান্য অংশে বিক্ষোভ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়লেও কেন্দ্রীয় সরকারকে স্বস্তি দিয়ে এ দিন অনেকটাই শান্ত ছিল উত্তর পূর্বাঞ্চল। অসমেও প্রায় দশদিন পর ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে বলে সংবাদসংস্থার দাবি।