দেশ জুড়ে ক্রমেই এটিএম জালিয়াতির পরিমান বাড়ছে। বছরখানেক আগে কলকাতার বহু মানুষ পর পর এই এটিএম জালিয়াতির কবলে পড়েছিলেন। বর্তমানে এই বিষয়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মহারাষ্ট্র রাজ্য। তারপরেই আছে রাজধানী দিল্লি। আর এই জালিয়াতি রুখতেই টাকা তোলার নিয়ম বদলাতে পারে। নতুন পথের সন্ধান এল দিল্লি স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির সম্মেলনে।

মঙ্গলবার এই সম্মেলনে ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্সের এমডি তথা সিইও মুকেশ কুমার জৈন প্রস্তাব দিলেন দুবার টাকা তোলার মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ১২ ঘন্টার ফারাক বাধ্যতামূলক করার। অর্থাৎ একবার কোনও গ্রাহক চাকা তুললে পরের ৬ থেকে ১২ ঘন্টার মধ্য়ে তিনি আর একই কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে পারবেন না।

এদিন দিল্লিতে শাখা থাকা দেশের ১৮টি ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করলেন। এটিএম জালিয়াতি রুখতে ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কগুলি বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে গত বছর যেখানে ২০১৭-১৮ সালে সারা দেশে এটিএম জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল ৯১১টি, সেখানে ২০১৮-১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮০টিতে। আর এইসব ঘটনায় জড়িত থাকছে বহু বিদেশী।

এদিন ব্যাঙ্কাররা জানিয়েছেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বেশিরভাগ এটিএম জালিয়াতির ঘটনাই ঘটে রাত্রিবেলা। কাজেই দিনে একবার টাকা তোলার পর রাতে ৬ থেকে ১২ ঘন্টা যদি টাকা তোলার সুযোগ না থাকে সেই ক্ষেত্রে জালিয়াতরাও জব্দ হবেন, গ্রাহকরাও বিশেষ সমস্যায় পড়বেন না।

তবে শুধু এই পদক্ষেপই নয়, এদিনের আলোচনায় উঠে এসেছে এইরকম আরও বেশ কিছু সুরক্ষামবলক পদক্ষেপের কথা। ভাবা হচ্ছে টাকা তোলার সময়ে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কথা। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইন লেনদেনের সময়ে যেভাবে গ্রাহককে একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়, সেভাবেই এটিএম থেকেও টাকা তোলার সময়ে পাসওয়ার্ড আসবে গ্রাহকের নথিভূক্ত মোবাইল নম্বরে।

এছাড়া এটিএমগুলিতে সেন্ট্রালাইজড মনিটারিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও এসেছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে ক্যামেরার মাধ্যমে সব এটিএম-এ নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে এই মনিটারিং সিস্টেম হবে টুওয়ে কমিউনিকেশনের সুবিধা যুক্ত। সেইক্ষেত্রে শুধু নজরদারি নয় এটিএম-এ টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের নজরদারি কেন্দ্র থেকে নির্দেশও দেওয়া যাবে। ধরা যাক কেউ হেলমেট পরে এটিএম-এ ঢুকল, সেইক্ষেত্রে তাঁকে নজরদারি কেন্দ্র থেকেই বলা হবে হেলমেট খুলে ফেলতে।