বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের অবন্তীপুর জেলার বেইগপোড়া গ্রামে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে খতম হয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান রিয়াজ নাইকু। এদিন সকাল থেকে প্রায় আটঘন্টা গুলির লড়াই চলার পর সাফল্য পায় সেনা। বর্তমানে কাশ্মীরের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' জঙ্গির তকমা পেয়েছিল নাইকু, তবে একসময় সে ছিল একেবারে নিরিহ এক অঙ্কের শিক্ষক, ছবি আঁকার হাতও বেশ ভালো ছিল বলে শোনা যায়।  

২০১৬ সালের ৮ জুলাই অনন্তনাগ জেলার কোকারনাগ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলির যুদ্ধে কাশ্মীরের হিজবুল গোষ্ঠীর পোস্টার বয় তথা হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর রিয়াজ নাইকু হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। বর্তমানে সেনা নাইকু-র মাথায় দাম ধার্ষ করেছিল ১২ লক্ষ টাকা।

তবে জঙ্গি দলে যোগদানের আগে এই নাইকু-র সঙ্গে গোলাগুলির কোনও সম্পর্কই ছিল না। যে বেইপোগ্রামে এদিন তার মৃত্য়ু হয়েছে, সেখানকারই বাসিন্দা ছিলেন নাইকু। উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে সে স্থানীয় একটি স্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসাবে কাজ করত। ৩৩ বছর বয়সে হাতে বন্দুক তুলে নেওয়ার আগে তার অন্যতম শখ ছিল ছবি আঁকা। যে সে ছবি নয়, শোনা যায় গোলাপ ফুল আঁকতে সবচেয়ে ভালোবাসত সে। একেরস পর এক নানা রঙের ও নানা ধরণের গোলাপের ছবিতে ভরা থাকত তার ক্য়ানভাস।

২০১৭ সালে আরেক কুখ্যাত জঙ্গি নেতা জাকির মুসা হিজবুল থেকে সরে এসে তার নিজস্ব জঙ্গি গোষ্ঠী আনসার গাজওয়াতুল হিন্দ গঠন করেছিল। তার দাবি ছিল, এই জঙ্গি গোষ্ঠী ভারতে আল-কায়দা'র শাখা সংগঠন। মুসা সরে যাওয়ার পর হিজবুল মুজাহিদিন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেইসময় এই নাইকু-ই হিজবুল সদস্যদের এক জায়গায় ধরে রেখেছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। ২০১৯ সালের মে মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাশ্মীরের ত্রাল জেলার দাদসারা এলাকায় মৃত্যু হয়েছিল মুশার। তারপর থেকে কাশ্মীরে জঙ্গি সংগঠনগুলির সবচেয়ে বড় নেতা হয়ে উঠেছিল নাইকু।

দিন কয়েক আগে হান্দওয়ারায় হিজবুল কমান্ডার হায়দার ও এদিন তাদের প্রদান কমান্ডার রিয়াজ নাইকু-র মৃত্য়ুর পর এই গোষ্ঠী ভেঙে যায়, নাকি বুরহান ওয়ানি, জাকির মুশা ও রিয়াজ নাইকুদের পথ ধরে আরও কোনও নতুন নেতা উঠে আসে সেটাই দেখার। তবে কাশ্মীরের স্থানীয়রা বলছেন, একজন অঙ্কের শিক্ষক, একজন চিত্রকর কেন তুলি-কলম ছেড়ে বন্দুক ধরেছিলেন, সেই দিকটাও খতিয়ে দেখা দরকার।