এযেন একেবারে রক্ষকই ভক্ষকের প্রকৃত উদাহরণ। তবে এবার নিজের সহকর্মীকেই প্রতারণা করার অভিযোগ উঠল এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল ওড়িশার গঞ্জাম জেলা। অভিযোগ সিলু ধল নামে এক সাব-ইন্সপেক্টর বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সহবাস করেন। অভিযোগকারিণী নিজেও একজন পুলিশের সাবইন্সপেক্টর বলে জানা যাচ্ছে।

সোমবার ওই মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর সিলু ধলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ওডিশার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশের কাছে যান। ডিজিপির কাছে পুরো বিষয়টি জানান তিন।  এরপর পুলিশকর্তার পরামর্শে খালিকোট থানায় সিলু ধলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে মহিলা ইনস্পেক্টর উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু, পরে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। 

আরও পড়ুন: ফের দৈনিক সংক্রমণ ৬০ হাজারের উপরে, দ্রুত ভ্যাকসিন আনতে ৩,০০০ কোটির কোভিড সুরক্ষা ফান্ডের ভাবনা

ওই মহিলা পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর জানান ২০১৭ সালে তিনি  বিজু পট্টনায়েক স্টেট পুলিশ অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য যান। সেই সময়  এসআই সিলু ধল তাঁকে প্রেম নিবেদন করেন। কিন্তু, ওই মহিলা পুলিশ কর্মীটি নিজে  নিম্নবর্ণের হওয়ায় প্রথমে তাতে রাজি হননি।  ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কা করে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। তার পরেও অবশ্য হাল ছাড়েনি ওই অভিযুক্ত এসআই। মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে তিনি  নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে প্রেম নিবেদন করতে থাকেন। এমনকি ওই মহিল পুলিশকর্মী সম্বলপুরে পোস্টিং থাকাকালীন, একদিন তাঁর রুমে এসে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে অভিযুক্ত।

আরও পড়ুন:আবার শিরোনামে যোগীরাজ্য, ফের প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে খুন উত্তরপ্রদেশে

মহিলা সম্পর্ক স্থাপন বাধা দিলে কান্নাকাটি শুরু করে অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর। সেই সময় ওই মহিলা পুলিশকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয় সিলু ধল। কিন্তু সম্পর্ক স্থাপনের কিছুদিন পরেই বদলে যায় সিলু ধলের আচরণ। ক্রমে দূরত্ব তৈরি করতে থাকে অভিযুক্ত। অবশেষে মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে ধল জানিয়ে দেয়,  তিনি তাঁকে বিয়ে করতে পারবেন না। এরপরেই ডিজিপির দ্বারস্থ হন ওই মিহলা পুলিশ। যদিও এই বিষয়ে ডিজিপির প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

জানা যাচ্ছে ওই দুই পুলিশকর্মী ওড়িশার দুই থানাতে কর্মরত। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক গুঞ্জম জেলার খালিকোট থানার সাব-ইন্সপেক্টর সিলু ধল।