নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির ফাঁসির পথে আর কোনও আইনি বাধা রইল না। মুকেশ সিং-এর পর সোমবার, খারিজ হল আরেক আসামি পবন কুমার গুপ্তার দাবি-ও। এদিন শীর্ষ আদালত জানায়, এই বিষয়ে কোনও নতুন তথ্যভিত্তি না পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আসামি পবনকুমার গুপ্তের দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) খারিজ করে দিল। পবন দাবি করেছি, যে অপরাধের সময় সে কিশোর ছিল।

বর্তমানে তিহার কারাগারে বন্দী পবন কুমার গুপ্তা গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দিল্লি হাইকোর্টে প্রথম এই আবেদন করেছিল। দাবি ছিল, তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার 'অসিফিকেশন টেস্ট' বা বয়স বিচারের জন্য হাড়ের পরীক্ষা, ঠিকভাবে করেননি। সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় তাকে জুভেনাইল আইনের আওতায় বিচার করা হোক। তবে দিল্লি হাইকোর্ট এই বিষয়টি মানেনি। হাইকোর্ট তার রায় সংশোধনে আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সে।

বিচারপতি আর ভানুমতি-র নেতৃত্বে বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এএস বোপান্না-র সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বেঞ্চ এদিন প্রথমেই পবনের আইনজীবীকে প্রশ্ন করে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই একই আর্জি সুপ্রিম কোর্টে খারিজ করে দিয়েছিল। এখন ফাঁসির পরোয়ানা জারির পর নতুন কী তথ্য আসতে পারে? কীভাবেই বা এটি গ্রহণযোগ্য হবে?

পবনের আইনজীবী এপি সিং দাবি করেন, পবনকুমারের স্কুলের রেকর্ডে তাঁর জন্ম তারিখ রয়েছে 8 অক্টোবর, ১৯৯৬। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আদালতই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি দাবি করেন ঘটনার সময় পবনের বয়স থিল ১৭ বছর ১ মাস ২০ দিন। তাই জুভেনাইল আইনেই তার বিচার হওয়া উচিত।

কিন্তু, শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট সেইসব নথি পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয়, মামলাটি গ্রহণ করার মতো কোনও তথ্যবিত্তি আসামিপক্ষের হাতে নেই। তাই আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারিই মুকেশ সিং, পবনকুমার গুপ্তা, বিনয় শর্মা এবং অক্ষয় কুমার সিং-এর ফাঁসি হবে। এর আগে ২২ জানুয়ারি এই ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথমে মুকেশ সিং ও পরে পবনের আবেদনে সেই আগের মৃত্যু পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ জারি করে আদালত।