এতদিন যা ছিল জাতীয় স্তরে ছিল, তার আঁচ এবার এসে পড়ল রাজ্য রাজনীতির আঙিনায়। প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় তাঁর  বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে দাবী করেন অপর্ণা সেন সহ বাকি বুদ্ধিজীবীরা চূড়ান্ত ভাবে একদেশদর্শী মনোভাব  বহন করে চলেছেন। 

ঘটনার সূত্রপাত ২৩শে জুলাই। অপর্ণা সেন, রামচন্দ্র গুহ, শুভা মুদ্গল, মনিরত্নম  সহ ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী দেশে ক্রমান্যায়ে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতার  প্রতিবাদে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কে একটি  চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে দাবী করা হয় জোর করে মানুষ কে দিয়ে 'জয় শ্রী রাম' বলিয়ে দেশের অসম্প্রদায়িক কাঠামোর মূলেই আঘাত করছে কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন। এরই সঙ্গে গণপিটুনি র একের পর এক ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অপর্ণা সেন, শুভা মুদ্গাল সহ বিশিষ্টজনেরা। প্রধান মন্ত্রী কে পাঠানো সেই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। তাঁদের চিঠির পাল্টা  আরেকটি চিঠি লেখেন প্রসূন জোশী, কঙ্গনা রানাওয়াত সহ ৬০ জন শিল্পী । অপর্ণা সেন দের দাবী কে নস্যাৎ করে তাঁরা জানান তাঁরা সম্পূর্ণ ভাবে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে আছেন। তথাগত রায়ের মন্তব্যে চিঠি রাজনীতির উত্তাপ যে আরও বাড়ল তা বলাই বাহুল্য।   

সাংবাদিক সম্মেলনে তথাগত রায় দাবী করেন যে এরকম একপেশে মন্তব্য কখনোই অপর্ণা সেনদের মতন প্রথম সারির বুদ্ধিজীবীদের থেকে কাম্য নয়। তাঁরা একদিকে যখন জয় 'শ্রী রাম ধ্বনির' সমালোচনা করছেন, তখন তাঁদের 'আল্লাহ হু আকবর' ধ্বনির ও সমালোচনা করা উচিত। কিন্তু সেটি না করে তাঁরা চূড়ান্ত একদেশদর্শীতার প্রমাণ দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি আরও জানান যে পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যাবে 'জয় শ্রী রাম ধ্বনি' দিয়ে যত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তার থেকে ঢের বেশি মানুষ কে 'আল্লাহ হু আকবর' ধ্বনি দিয়ে নিকেশ করা হয়েছে। অতয়েব প্রতিবাদ যদি করতেই হয়, তা দুক্ষেত্রেই করা উচিত বলে তিনি জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে এই একপেশে মনোভাবের পেছনে নিশ্চিত ভাবেই রাজনৈতিক কারন রয়েছে, এবং অর্থনৈতিক কারন থাকলেও থাকতে পারে!  
  
যদিও তথাগত রায়ের মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই ধোঁওয়াশা তৈরি হয়েছে। অপর্ণা সেন আগেই সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি জোর করে কাউকে দিয়ে কোনও ধ্বনি দেওয়ানোরই বিরোধী- তা সে জয় শ্রী রাম' ই হোক বা 'আল্লাহ হু আকবর'। তারপরেও তথাগত রায়ের এহেন মন্তব্যের জেরে শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।