দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই মন্দায় আক্রান্ত। যার ফলে দেশের কর্মসংস্থানের হার নিম্নমুখী। এরকম পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখাল টাটা কন্সাল্ট্যান্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে  তাঁদের সংস্থায় প্রায় ৩০,০০০ নতুন নিয়োগ করা হবে। টিসিএস সূত্রে জানা গিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র সহ আরও বেশ কয়েকটি বিভাগে এই নতুন নিয়োগগুলি করা হবে। 

 দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি  সংস্থা টিসিএস সূত্রে জানা গিয়েছে প্রায় পাঁচ বছর পরে তাঁরা এক ধাক্কায় এত সংখ্যক নতুন কর্মী বা 'ফ্রেসারস' নিয়োগ করবেন। এর ফলে দেশের ধুঁকতে থাকা তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের ক্ষেত্রে যে নতুন রক্তের সঞ্চার হবে তা এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন শিল্প বিশেষজ্ঞেরা। ২০১৯-২০ অর্থ বর্ষের প্রথম তিন মাসের মধ্যেই বিপুল নিয়োগ করেছে সংস্থাটি। জুন মাসের মধ্যেই প্রায় ১২, ৩৫৬ জন কর্মপ্রার্থীর হাতে টিসিএস তাঁদের নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে। বাকি নিয়োগও খুব শীঘ্রই করা হবে বলে টিসিএস সূত্রে খবর।   

এই সদ্য নিযুক্ত কর্মীবাহিনীর সিংহভাগই 'ফ্রেসারস' বা সদ্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেড়িয়েছে। শেষ কবে এক লপতে এত সংখ্যায় নতুন কর্মী নিয়োগ হয়েছে ভারতবর্ষের বুকে তা মনে করতে পারছে না ওয়াকিবহাল মহল। ২০১৯-২০ অর্থ বর্ষের প্রথম তিন মাস বা ফার্স্ট কোয়ার্টারের মধ্যেই প্রায় ৪০ শতাংশ নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে ।  সংস্থা সূত্রে দাবি সেকেন্ড কোয়ার্টার বা আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকি নিয়োগ প্রক্রিয়াটিও তারা সম্পন্ন করে ফেলবেন।  ২০১৯-২০ অর্থ বর্ষের প্রথম কোয়ার্টার শেষে এই ভারতীয় বহুজাতিক সংস্থাটির কর্মী সংখ্যা  ৪৩৬,৬৪১। বিশ্বের অন্যতম সফল এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটিতে প্রায় ১৪৯ টি দেশের নাগরিকেরা কর্মরত, যা এক কথায় নজিরবিহীন। শুধুমাত্র এই দেশেই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ঠিকানা টিসিএস। সে দেশেও প্রায় ৪০,০০০ জন টি সি এস এ কর্মরত। অল্প কিছুদিন আগেই টিসিএস বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্পের বরাত পেয়েছে। সংস্থা সূত্রে খবর, নতুন কর্মীদের সেই প্রকল্পগুলিতে সুযোগ দিয়েই গড়েপিটে নেওয়া হবে।  

কর্মীদের সুবিধার্থে টিসিএস বরাবরই বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে এসেছে। এর ফলে বাকি সংস্থাগুলির তুলনায় তাঁদের দলছুটের হার অনেকটাই কম। সদ্য প্রকাশিত একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ২০১৯-২০  অর্থ বর্ষের প্রথম কোয়ার্টারে মাত্র ১১.৫ শতাংশ কর্মী টিসিএস ছেড়ে অন্যত্র কাজের সন্ধানে গিয়েছেন। উইপ্রো র ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ১৭.৬ শতাংশ এবং ইনফোসিস এর ক্ষেত্রে সেটি প্রায় ২৩.৪ শতাংশ।