কৃষি বিল ২০২০-কে বৈপ্লবিক এবং সংস্কারক বলে অভিহিত করলেন অর্থনীতিবিদ অরবিন্দ ভিরমানি। তিনি একটি টুইট বার্তায় লিখেছেন- এই বিল কৃষি ক্ষেত্রে একটা বিপ্লব এবং সংস্কারের সূচনা করবে। এতে উপকৃত হবেন কৃষকরা। মিডল ম্যান ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের যারা বাজারের নিয়ন্ত্রণ একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে রাখার পক্ষপাতি তারা অসুবিধায় পড়বেন। অরবিন্দ ভিরমানির এই  টুইট এমন একটা সময় এল যখন কৃষি বিল ২০২০ নিয়ে রীতিমতো উত্তাল দেশ। যার আঁচ রবিবার রাজ্যসভার বিশেষ অধিবেশনে দেখেছে গোটা দেশ। কীভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানো শুধু নয়, সংসদীয় রীতিনীতি-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রুলবুক ছিঁড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে চেয়ারম্যানের মাইক ভেঙে দেয়- তার সমস্তটাই টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে সরকারিভাবে এক প্রেস মিটও করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে, অরবিন্দ ভিরমানির মতো একজন অর্থনীতিবিদের এই টুইট কৃষি বিল ২০২০ নিয়ে মোদী সরকারের বক্তব্যকে মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

 

অরবিন্দ ভিরমানি আসলে নির্মলা সীতারামণের একটি টুইটকে রিটুইট করতে গিয়ে কৃষি বিল ২০২০ নিয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। 'জয় কিষাণ-এর জয়ধ্বনি দিয়ে নির্মলা সীতারামণ টুইট করে জানান সংসদে কৃষি বিল ২০২০ পাশ হয়ে গিয়েছে। এখন থেকে কৃষকরা নিজের পছন্দমতো দেশের যে কোনও স্থানে নিজের পছন্দমতো দামে তাঁদের শস্য বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে এর দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই সঙ্গে এমএসপি এবং এপিএমসি-ও চালু থাকবে।' নির্মলার এই টুইটের প্রেক্ষিতেই অরবিন্দ ভিরমানি টুইট করেন। আর সেখানেই কৃষি বিলের পক্ষে তিনিও জয়গান গান। 

অরবিন্দ ভিরমানি অবশ্য বিজেপি-র প্রতি নরম মনোভাব রাখা এক অর্থনীতিবিদ হিসাবেই পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সময়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের হয়ে অর্থনীতি নানা পজিটিভ অ্যাঙ্গেলকে তুলে ধরেছেন। এমনকী সম্প্রতি তিনি দাবিও করেছিলেন যে অতিমারিতেও ভারতে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে থাকবে। কিছুদিন আগে লকডাউনের মধ্যে তাঁর একটি মন্তব্যে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিতর্কও তৈরি করেছিল। এই মন্তব্যে অরবিন্দ ভিরমানি কট্টরভাবে লকডাউনে মাইনে না দেওয়ার ব্যাপারে সওয়াল করেছিলেন এবং তিনি জানিয়েছিলেন, লকডাউনের মধ্যে কেউ যদি মাইনে পাওয়ার কথা চিন্তা করে তাহলে সেটা অকল্পনীয় ভাবনা। সন্দেহ নেই রাজ্যসভায় কৃষি বিল পাশে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাতে অরবিন্দ-এর সিলমোহর মোদী সরকারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। কারণ, বিতর্কের সঙ্গে সঙ্গে অরবিন্দের অর্থনৈতিক ভাবনাকে যথেষ্টই গুরুত্ব সহকারে দেখেন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা।