মুলি বাঁশে খাদ্যগুণের কথা মাথা রেখে ত্রিপুরায় তৈরি হয়েছে বাঁশের কুকিজ বা বিস্কুট। শুক্রবার বিশ্ব বাঁশ দিবস উপলক্ষ্যেই সেই বাঁশের তৈরি বিস্কুট লঞ্চ করেছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। নিমেষের মধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়া। শুধু বিস্কুট নয় বাঁশের তৈরি জল রাখার পাত্রও চালু করা হয়। যা ইতিমধ্যেই মন কেড়ে নিয়েছে প্রকৃতি প্রেমীদের। 

বর্তমানে মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হওয়ায় বাঁশের তৈরি বোতল, চিরুনি বা ব্রাশের মত জিনিসের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আর সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে ত্রিপুরার বর্তমান সরকার। কারণ ত্রিপুরায় বাঁশ শিল্পের চাহিদা রয়েছে। বহু মানুষেরই অন্নসংস্থান হয় এই শিল্পের মাধ্যমে। আর সেই কারণেই মানুষের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিল্পব দেব নিজের সোশ্য়াল মিডিয়ায় বাঁশের তৈরি বোতল আর বিস্কুটের ছবি শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলছেন এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ভারত দর্শনের এই পথ হতেই পারে। কারণ এখান থেকে বহু মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাঁশের তৈরি বিস্কুটের গুণাগুণ সম্পর্কেও লিখেছেন তিনি। বলেছেন, বাঁশের তৈরি বিস্কুট খুবই স্বাস্থ্যকর। আর এই উদ্ভাবনী ধারনার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন, বিসিডিআই এ চিকিৎসক অভিনব কান্তেকে। 

কান্তে জানিয়েছেন বাঁশের তৈরি কুকিজগুলিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর খনিজ পদার্থ রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে। কুকিজগুলি স্বপ্ল ক্যালরি যুক্ত হওয়ায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুব উপকারী। একটি ক্লিনিকের মতে বাঁশের কাণ্ডের প্রধান নিউট্রেসটিকালগুলি হল ফিনোলস, যা কোলেস্টেরলের সঙ্গে সম্পর্কিত অণুগুলির একটি পরিবার। যা আমাদের দেহকে কোষের ক্ষতি ও ফাইটোস্টেরল থেকে রক্ষা করতে সাহায্য় করে। আর বাঁশের অঙ্কুর হাঁপানি আর গ্যাস্ট্রিক রোগীদের পক্ষে খুবই উপকারী।