১৯৯৯ সালের ৬ই জুন। দুই দিন ধরে শত্রুকে সমুচিত জবাব দিয়ে এক এক করে দখল নেওয়া হয়েছে বেহাত হয়ে যাওয়া সমস্ত অঞ্চল। এমন সময় হঠাৎই ছন্দপতন। জ্বলন্ত সিসের টুকরো  এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে চলে গেল  ২৫ বছরের তরতাজা এক যুবকের শরীরকে। তারপরের ঘটনাটা বোধহয় আমরা সকলেই জানি, গান স্যালুট, তিরঙ্গায় শায়িত হয়ে শেষবারের জন্য বাড়ি ফেরা। থ্রি হুট, এবং ফায়ার। একদলা স্মৃতিকে  পিছনে ফেলে ক্রমশ আবছা হয়ে যায় মানুষটা। 
 
এটা হতেই পারত কার্গিল  যুদ্ধের  যে কোনও একজন শহিদের গল্প, হল না শুধু ওই ভারতীয় সেনানির বীরত্বের জন্য। কারণ, সেই কাহিনি এরপর বীরগাথা-তেই পরিণত হয়েছে। আর এই বীর সেনানির নাম ক্যাপ্টেন হানিফ উদ্দিন। পাক হানাদার বাহিনীর গোলাবর্ষণকে হেলায় উড়িয়ে দিয়ে তুর্কটুক অঞ্চলের একের পর এক শৃঙ্গ দখলমুক্ত করেছিলেন তিনি। টানা ৪৮ ঘণ্টার অপারেশন শেষে  যখন মনে হচ্ছিল ১৮,০০০ ফিট উচ্চতার  এলাকাটি থেকে সমস্ত হানাদারকে তাড়ানো গিয়েছে, তখনই ঘটল ছন্দপতন। পাকিস্তানি রেঞ্জারদের পাল্টা আক্রমণে শহিদ হন ক্যাপ্টেন হানিফ। পাকিস্তানি আক্রমণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ৪৮ দিন  অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাঁর দেহ নামিয়ে আনতে। তার পরের ঘটনাটা? সেটা সবারই জানা। ওই থ্রি হুট অ্যান্ড ফায়ার। 

ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে ২০টা বছর। কেমন আছেন হানিফের পরিবার? তাঁর রত্নগর্ভা মা? তাঁর মা হেমা আজিজের কথায় তিনি গর্বিত তাঁর সন্তানের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে । হানিফ কখনওই বুঝতে দেননি তাঁর ভেতরে কি পরিমাণ সাহস এবং জীবনীশক্তি মজুদ রয়েছে। হেমা আজিজ আরও জানান যেহেতু তিনি নিজে একটা সময় বায়ুসেনার সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই এই ধরনের খবরের আকস্মিকতার সঙ্গে তিনি পরিচিত। কিন্তু কখনও কল্পনাই করেননি তাঁর নিজের সন্তানের খবর এইভাবে তাঁর কাছে এসে পৌঁছবে। খুব অল্প বয়সে বাবা মারা যাওয়ায় শৈশবের একটা বড় সময় হানিফকে একাই কাটাতে হয়েছে। তাঁর মা'র কথায় সেই দিনগুলিই তৈরি করে তুলেছিল আগামীর এই সেনা অফিসারকে। তাঁর ভেতরে প্রেরণ করেছিল নির্ভীকতা এবং আত্মপ্রত্যয়।  ঘটনার এতগুলি বছর পরে তিনি শুধু এটাই মনে রাখতে চান যে তাঁর সন্তান নিজের ডিউটি পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে।