'এক সময় যারা বিহারকে শাসন করেছিল, সেই তারাই আবার লোভী চোখে তাকিয়ে আছে এই 'উন্নয়নশীল রাজ্যে'র দিকে। কিন্তু, বিহারবাসীর ভুললে চলবে না, যে কারা তাদের পিছিয়ে দিয়েছিল, কাদের সময়ে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল এবং দুর্নীতিতে ভরেছিল প্রশাসন।' নির্বাচনের আগে বিহারে প্রথম জনসভাতেই কংগ্রেস, আরজেডি ও বামদের মহাজোটকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে চিরাগ পাসওয়ান-এর বিরুদ্ধে একটি শব্দও খরচ করলেন না তিনি। বরং সদ্য প্রয়াত রামবিলাস পাসওয়ান-এর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন একেবারে সভার শুরুতেই।

এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সাসারামের বাইয়াদা ময়দানে নীতিশ কুমারের সঙ্গে যৌথ নির্বাচনী সভা করেন নরেন্দ্র মোদী। গণতন্ত্রের উৎসব উদযাপনের সময় কোভিড সম্পর্কিত সতর্কতা বজায় রাখার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। তারপর দরীদ্রদের বিনামূল্যে রেশন, কৃষি আইন, ২৭০ ধারা থেকে গালওয়ান উপত্যকা - উঠে এল একে একে।

বিহারে এইবার ভোটে অন্যতম প্রধান বিষয় হিসাবে উঠে এসেছে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা। একদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করছে লকডাউনের সময় বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সসম্মানে ঘরে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অন্যদিকে, নীতিশ শিবির প্রচার করছে এই বিষয়ে তাদের সাফল্য। এদিন প্রধানমন্ত্রী সেই ধারা বজায় রেখেই বলেন, রাজ্যের আগের শাসকদের সময়ে রেশন লুট করা হত। কিন্তু, তাঁর সরকার দরিদ্রদের জন্য নিখরচায় রেশন নিশ্চিত করেছে। বিহারের উন্নয়নের জন্য বিজেপি ফের নীতিশ কুমারের হাত ধরেছে বলে মঞ্চ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদীর এদিনের বক্তব্যে উঠে এসেছে সদ্য পাশ হওয়া কৃষি আইন-এর প্রসঙ্গও। বিরোধীরা এই আইনগুলি কৃষক স্বার্থ বিরোধী বলে দাবি করেছে। নরেন্দ্র মোদী এদিন বিশদে না গিয়ে অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা সবসময় মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তা করার চেষ্টা করে। যখনই মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন বিরোধীরা 'কষ্ট' পায়। সেই কারণেই কৃষি আইন-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিহার নির্বাচনের এই জ্বলন্ত বিষয়গুলির পরই নরেন্দ্র মোদী এদিন ফিরে আসেন তাঁর পুরোনো সেনা-জাতীয়তাবাদের রসে।  বিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি তোলেন ৩৭০ ধারা বাতিলের কথা। বলেন, বিরোধীরা যতই চেষ্টা করুক, ভারত সরকার ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে না। গত জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় চিন সেনার সঙ্গে রক্তাক্ত সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডার সহ বেশ কয়েকজন সেনা সদস্যের। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত মাতার মাথা উঁচু রাখতে এবং ত্রিরঙ্গা পতাকার জন্য বিহারের এই সন্তানরা প্রাণ দিয়েছেন। এমনকী পুলওয়ামার জঙ্গি হামলাতেও বিহারের জওয়ানরাও শহিদ হয়েছিলেন। তাঁদের নতমস্তকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী।

আর সবশেষে তিনি বলেন, বিহারকে সত্যি সত্যি আত্মনির্ভর করে তুলতে দরকার এনডিএ-র নেতৃত্ব। কিন্তু, কীভাবে, তার কোনও হদিশ দেননি তিনি।