এক কিলো দু-কিলো নয় এক্কেবারে ৩ কিলো টন সোনার ভান্ডার নিয়ে সমৃদ্ধ হয়ে আছে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা। এমনকী এই স্বর্ণভাণ্ডার থেকে পাওয়া সোনার হিসেব ৫,২০০ কিলো টল পর্যন্ত হতে পারে। এমনও তথ্য দিয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে অ ইন্ডিয়া। 

এই বিশাল স্বর্ণভাণ্ডারের বর্তমান মূল্য ১২ লক্ষ কোটি টাকা। এটা ভারতের বর্তমান সঞ্চিত সোনার ভাণ্ডার-কে ৫ গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানিয়েছে জিএসআই। সোনভদ্রার স্বর্ণভাণ্ডার নিয়ে একটি আনুমানিক অঙ্ক প্রকাশ করেছে তারা। এতে পরিস্কার করে বলা হয়েছে সোনভদ্রায় যে সোনার সন্ধান মিলেছে তাতে সেখান থেকে ২০ বছর ধরে উত্তোলন চালাতে হবে। ভারত সরকারের বর্তমান সঞ্চিত সোনার পরিমাাণ ৬১২.২ টন। 

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের একটি তালিকা রয়েছে যেখানে সঞ্চিত সোনার নিরিখে প্রথম পাঁচটি দেশের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এই তথ্য অনুসারে সঞ্চিত সোনার হিসাবে সবার উপরে এই মুহূর্তে রয়েছে আমেরিকা। তাদের কাছে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ৮,১৩৩.৫ কিলো টন। এরপরে রয়েছে জার্মানি। তাদের কাছে রয়েছে ৩,৩৬৬ কিলো টন সোনা। ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের কাছে রয়েছে ২,৮১৪ কিলো টন সোনা। এরপরে রয়েছে ইটালি। তাদের কাছে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ২,৪৫১.৮ কিলো টন। ফ্রান্সের কাছে রয়েছে ২,৪৩৬ কিলো টন। 

সুতরাং, সোনভদ্রার ৩,০০০ কিলো সোনা উত্তোলন করা যদি সম্ভব হয় তাহলে এই তালিকায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বরাবরই একটি দেশের অর্থনৈতিক দৃঢ়তায় সোনার সঞ্চয় গুরুত্বপূর্ণ। তাই এক্ষেত্রে ভারতের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলের একটা সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইতিমধ্যেই উত্তর প্রদেশের থাকা জিএসআই দপ্তর থেকে একটি দলকে সোনভদ্রায় পাঠানো হয়েছে। এই দলটি এই মুহূর্তে সোনার ভাণ্ডারের হদিশ মেলা এলাকার মানচিত্র তৈরি করছে। সেইসঙ্গে এলাকার জিও-ট্যাগিং করছে। 

যোগী আদিত্যনাথ-এর উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই স্বর্ণভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় এলাকাটি রয়েছে সোনা পাহাড়ি-তে। সেখানে আনুমানিক ২,৯৪৩ কিলো টন সোনা রয়েছে মাটির তলায়। এখানে খনন চালালে এটা ৫,২০০ কিলো টন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এছাড়া হার্দি ব্লকে ৬৪৬ কিলো টন সোনারও সন্ধান মিলেছে।