ফের উত্তরপ্রদেশে নির্যাতনের শিকার দলিত কন্যা। এবার একেবারে তিন কিশোরী বোনকে অ্যাসিড হামলার অভিযোগ উঠল গোন্ডা জেলার পাকসা গ্রামে। জানা গিয়েছে সোমবার রাতে বাড়ির উঠোনে শুয়ে ঘুমোচ্ছিল ওই তিন বোন। সেই সময়ই এক দুষ্কৃতী তাদের উপর অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে। হামলায় তিন বোনই জখম হয়েছে। তাদের জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে, তবে প্রাণহানির আশঙ্কা নেই। মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

একজন পদস্থ পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, বড় বোনকেই নিশানা করেছিল ওই ব্যক্তি। ১৭ বছরের ওই দলিত কন্যার ২৩ অক্টোবরই বিবাহ হওয়ার কথা। হামলার পর সে পুলিশকে জানিয়েছিল, আশীষ নামে এক যুবক তাকে বেশ কয়েকদিন ধরেই বিরক্ত করছিল। সেই ওই রাতে হামলা চালায়। তার বাকি দুই বোনের বয়স সাত এবং পাঁচ বছর।

ঘটনার পরই উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে একযোগে নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা, বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও গোন্ডার পুলিশ সুপারকে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে, জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে অবিলম্বে সাহায্য করা এবং ওই তিন নাবালিকার যথাযথ চিকিত্সার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আশীষকে গ্রেফতার করলেও তার ছোড়া রাসায়নিকটি যে অ্যাসিড, এখনই তা বলতে নারাজ পুলিশ। এসপি শৈলেশ কুমার পান্ডে বলেছিলেন, এই হামলায় ব্যবহৃত রাসায়নিক এখনও সনাক্ত করা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখছেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিতিন বনসল বলেছেন, বড় মেয়েটিকে সরকারী প্রকল্পের আওতায় পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুসারে পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।