নিঃসন্দেহে ভারতের সবকটি রাজ্যের মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি সবচেয়ে ভালো সামলাচ্ছে কেরল-ই। জানুয়ারির শেষে এই রাজ্যেই ভারতের প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকে রবিবার ১০ মে তারিখ পর্যন্ত সেই রাজ্যে করোনাভাইরাস রোগীর মোট সংখ্যা মাত্র ৫১৩ জন এবং তার থেকেও বড় কথা সুস্থ হয়ে ওঠার হার ৯৫ শতাংশ-এরও বেশি। এরপর গত কয়েকদিনে দক্ষিণের এই রাজ্যে লকডাউন প্রোটোকল অনেকটাই শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু, রবিবার সকাল থেকে ফের কঠোর লকডাউন ফিরল বিজয়নের রাজ্য। এর কারণ আরব ফেরত ব্যক্তিরা।

মূলত, তাদের জন্যই গত ২৪ ঘন্টায় কেরলে নতুন করে সাতটি কোভিড -১৯ ইতিবাচক মামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। তার ফলে রবিবার কেরলে কোভিড-১৯'এর সক্রিয় মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। সেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে শৈলজা জানিয়েছেন, এদিন নতুন করে পাওয়া সাতটি ইতিবাচক মামলার মধ্যে দুটি ত্রিশুর এবং একটি মলপ্পুরমের। এঁরা প্রত্যেকেই গত ৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবি থেকে কেরলে এসে পৌঁছেছিলেন। তবে রবিবার তিনি আরও চারজনের সুস্থ হয়ে ওঠার খবরও দিয়েছেন। 

সবমিলিয়ে রবিবার পর্যন্ত কেরলের হিসাবটা এইরকম - মোট আক্রান্ত - ৫১৩, মৃত্যু - ৪, সুস্থ - ৪৮৯, সক্রিয় মামলা - ২০। এরপরেও কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে রবিবার সকাল থেকে ফের রাজ্যে সরকারি নির্দেশে কঠোর লকডাউন বিধি আরোপ করা হয়েছে। শনিবার রাতেই কেরলের বাম সরকার এই বিষয়ে একটি আদেশ জারি করে বলেছিল, প্রয়োজনীয় পণ্য ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার দোকানগুলি ছাড়া বাকি সব দোকান ও যানবাহন ফের বন্ধ থাকবে। সেইমতো এদিন রাজ্য জুড়ে রাস্তাঘাট ছিল একেবারে খালি, এবং দুধ, ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয় বাদে অন্যান্য দোকানপাট বন্ধই ছিল। হাসপাতাল, ল্যাব এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ছাড়া রবিবার থেকে আর কাউকে কাজ করারও অনুমতি দেওয়া হবে  না।

গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছিলেন, কেরলে কোভিড-১৯ রোগের কার্ভ বা রেখচিত্রটা তাঁদের রাজ্য ফ্ল্যাট করতে পেরেছে। ওই দিন একক সংখ্যায় নেমে গিয়েছিল সেই রাজ্যের সক্রিয় মামলার সংখ্যা। কিন্তু, শনিবার আবুধাবি ও দুবাই থেকে রাজ্যে ফিরে আসা প্রবাসীদের দুজনের দেহে করোনাভাইরাস-এর উপস্থিতি মিলেছিল। রবিবার সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল বিভিন্ন দেশ থেকে চার লক্ষেরও বেশি প্রবাসী রাজ্যে ফিরে আসতে চেয়ে  নাম নথিভুক্ত করেছেন।