বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীকে হাথরস যেতে বাধা দিয়েছিল উত্তর প্রদেশ পুলিশ। কংগ্রেস নেতাকে মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। শুক্রবার সেই একই ঘটনা ঘটল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়নের সঙ্গে। আজ হাথরস সীমানার কাছেই তৃণমূল সাংদরে আটকে দেয় পুলিশ। ডেরেককে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। 

এদিন উত্তর প্রদেশের হাথরসের ২০ বছরের নিহত নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়ন, কাকলী ঘোষদোস্তিদারসহ একাধিক সাংসদ আর নেতারা। কিন্তু নির্যাতিতার বাড়ি থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতৃত্ব জোর করে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। আর সেই সময়ই পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধ্বস্তাধ্বস্তি। তখনই ডেরেক ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বা তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ডেরেক চোট পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় কাকলী ঘোষদোস্তিদারেরও। 

 

এই ঘটনার পরি প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। তাঁরা রাস্তায় বসেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময়ই বেটি জ্বালাও বলে স্লোগান তুলতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও স্লোগালকে রীতিমত কটাক্ষ করতে থাকেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও জানান হয়েছে, তাঁরা নিহত নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্যাতিতার গ্রামে ঢোকার আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। 

নির্যাতিতার বাড়ির পাশাপাশি গোটা গ্রাম ঘিরে রেখেছে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ। সংবাদ মাধ্যম সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না নির্যাতিতার গ্রামে। যা নিয়ে রীতিমত ক্ষোভ বাড়ছে। মঙ্গলবার হাথরসের নির্যাতিতার মৃত্যুর হয় দিল্লির হাতপাতালে। তারপর পরিবারের অনুমতি না নিয়ে রাতারিত জ্বালিয়ে দেওয়া হয় দলিত মেয়েটির দেহ। পুলিশ নির্যাতিতার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেয়নি বলেও অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল প্রশাসন। কিন্তু আজ সকাল থেকেই ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা গ্রাম। তবে এই ঘটনা বিরোধীদের কিছুটা হলে জমি ফিরে পাওয়ার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। কারণ হাথরসকাণ্ডকে হাতিয়ার করেই রাজনীতির ময়দানে নেমেছে কংগ্রেস। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি। সরব হয়েছেন দলিত নেত্রী মায়াবতী। অন্যদিকে হাথরসকাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে আম আদমি পার্টিও।