আজ সকালেই ঘোষণা হয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি-র এডিজি রাজীব কুমারের ভাগ্য। কারণ, এদিন সকালেই শীর্ষ আদালতে ঘোষণা হতে চলেছে রাজীব মামলার রায়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন রাজীব। তিনি গতকালই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে রিপোর্টও করেছেন। রাজীব মামলার রায় যে আজ ঘোষণা হতে পারে তেমন কোনও খবর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও ছিল না। কিন্তু, ভোটের শেষ দফার প্রচার নিয়ে মমতা বনাম মোদীর যে বাকযুদ্ধ চলছিল, তারমাঝেই শেষবেলায় সামনে আসে শুক্রবারই রাজীব মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি। 

সারদা চিটফান্ড-সহ বেশ কয়েকটি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রাজীবের কাছেই আছে বলে নিশ্চিত সিবিআই। এই-সব ফাইল হাতে এলে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রভাবশালী আরও বহু মানুষের নাম প্রকাশ্যে আসতে পারে। গত কয়েক বছর ধরেই এই ফাইল-এর হদিশ নিয়ে রাজীব কুমারের সঙ্গে রীতিমতো টাগ-অফ ওয়ার চলছে সিবিআই-এর। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শিলং-এ সিবিআই রাজীব কুমারকে টানা তিন দিন ধরে জেরা করে। সিবিআই এই জেরা নিয়ে খুশি নয় এবং সেই রিপোর্ট-ও সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে। সেইসঙ্গে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজীব কুমারের গ্রেফতারিও দাবি করেছে তারা।  

সিবিআই কেন  রাজীব কুমার-কে নিজেদের হেফাজতে রাখতে চাইছে তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মুখবন্ধ খাম জমা করেছে। ২মে এই বিষয়ে রায় ঘোষণার কথা ছিল শীর্ষ আদালতের। যদিও পরে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়দান বন্ধ রাখে।

পশ্চিমবঙ্গের সারদা কেসের স্পেশাল তদন্তকারী দলের প্রধান ছিলেন রাজীব কুমার। সেই সময় তিনি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার ছিলেন তিনি। পরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কলকাতা পুলিশের নগরপালের দায়িত্ব দেন। রাজীবের যুক্তি তাঁর কাজ ছিল চিটফান্ডকান্ডের তদন্তের সুপারভাইস করা। ডে-টু-ডে তদন্ত পদ্ধতির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। ফলে, তদন্তের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় তাঁর পক্ষে বলা অসম্ভব। এছাড়াও, কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে দায়িত্ব নেওয়ার সময় চিটফান্ডকাণ্ডের এসটিএফ পদ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। ফলে, এরপর তদন্তের গতি-প্রকৃতি কোন দিকে গিয়েছে তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। যদিও, সিবিআই এই যুক্তি মানতে রাজি নয়। কারণ সারদা চিটফান্ডের মালিক সুদীপ্ত সেন সিবিআই-কে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তাঁর এবং তাঁর সহকারিনী দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা যাবতীয় জিনিস সিজ করা হয়েছিল রাজীব কুমারের সামনে। সেই সিজার লিস্টে একটি লাল ডায়েরিও ছিল। ওতেই ছিল সারদার চিটফান্ড থেকে অর্থ নেওয়া প্রভাবশালীদের নাম।

এদিকে শেষ দফার নির্বাচনের আগে চিটফান্ড নিয়ে বাংলায় এসে জোর সওয়াল করেছেন মোদী ও অমিত শাহরা। সারদা-নারদা থেকে রোজভ্যালি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতি-তে বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পাল্টা আক্রমণ করেন। মথুরাপুরের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, 'মোদীবাবু চিটফান্ড নিয়ে বহু বড় বড় কথা বলছেন, কিন্তু তিনি নিজেই তো মথুরাপুরে চিটফান্ড মালিকের জমিতে মিটিং করছেন। এই জমি মালিককে আমরা ছেড়ে দেব না। কপিল মণ্ডল নামে এই চিটফান্ড মালিকের বিরুদ্ধে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং খুঁজে বের করা হবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককেও।'