আবারও গুলির লড়াইয়ে কেঁপে উঠল উপত্যকা। গুলির লড়াইয়ে পুলিশের হাতে প্রান হারিয়েছে এক শীর্ষ জইশ কম্যান্ডার।  পুলিশ সূত্রে খবর জম্মু কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুলির লড়াইএ প্রাণ হারায় দুই জইশ ই মহম্মদ জঙ্গি। জানা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিক - মুন্না লাহোরি। অপর সন্ত্রাসবাদীর পরিচয় এখনও জানা না গেলেও, মনে করা হচ্ছে সে জইশ এর স্থানীয় শাখার সদস্য। 

মুন্না লাহোরির খোঁজে বেশ কিছুদিন ধরেই তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। জানা গিয়েছে উপত্যকায় বেশ কয়েকটি নাশকতামূলক ঘটনার সাথে জড়িত পাকিস্তানি এই জঙ্গি নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে সিভিলিয়ান বা সাধারণ মানুষ কে হত্যা করার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে পুলিশের খাতায়। মুন্না লাহোরি ছাড়াও  বেশ কয়েকটি নামে উপত্যাকায় পরিচিত ছিল নিহত এই জঙ্গি নেতা, যার মধ্যে অন্যতম 'বিহারি'। পুলিশ সূত্রে খবর জইশ-ই-মহম্মদের ভেঙে পড়া সংগঠন কে নতুন করে গড়ে তুলতে শোপিয়ান এলাকায় সদস্য সংগ্রহ করছিল সে। জানা গিয়েছে বিস্ফোরক বা আইইডি বানানোর ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিল এই মুন্না লাহোরি।  
 
শনিবার সকালে গোপন সূত্রে শোপিয়ানের বনবাজার এলাকার বান্দে মহল্লায় সন্ত্রাসবাদীদের আনাগোনার খবর পায় জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। তৎক্ষণাৎ গোটা এলাকাটিকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে জম্মু কাশ্মীর পুলিশের বিশেষ বাহিনী। পালানোর পথ বন্ধ বুঝতে পেরে আচমকাই বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে ওই দুই সন্ত্রাসবাদী। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পরে এনকাউন্টারে মারা যায় ওই দুই জঙ্গি। 

জম্মু কাশ্মীর পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন নিহত দুই জইশ জঙ্গির  হেফাজত থেকে প্রচুর পরিমাণে গুলি এবং বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও নিষিদ্ধ কিছু পত্রিকা ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গিয়েছে।  পুলিশ এখন তদন্ত  করে দেখছে গোটা ঘটনায় আরও কোনও জঙ্গি যুক্ত ছিল কিনা।  

পুলিশ এবং সেনাবাহিনী সূত্রে খবর জানুয়ারি থেকে জুন অবধি কাশ্মীরে মোট ১১৩ জন জঙ্গি নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছে।