ওই একটি ব্যাগ ঘিরেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জুড়ে। খবর ছড়িয়েছিল, বড় ট্রলি ব্যাগে ঠাসা রয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। এমন কী, তা আরডিএক্স বলেও প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল। এই খবরের জেরেই গোটা দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে চরম সতর্কতা জারি হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দিল্লি বিমানবন্দরে উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক সেই ব্যাগের মালিকের খোঁজ মিলল। জানা গিয়েছে, ব্যাগের মধ্যে আরডিএক্স দূরে থাক, ছিল জামাকাপড়, ল্যাপটপ, চকোলেটের মতো নিতান্ত সাধারণ জিনিসপত্র। মুম্বাই থেকে ফেরার পথে এক যাত্রীই ভুল করে ওই ব্যাগ বিমানবন্দরে ফেলে চলে গিয়েছিলেন। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দিল্লি বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনাল থেকে ওই দাবিদারহীন ট্রলি ব্যাগটি উদ্ধার হয়েছিল। এর পরেই ওই ব্যাগ ঘিরে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। যাত্রীদের আটকে রেখে ব্যাগটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়। ব্যাগ উদ্ধারের প্রায় ষোল ঘণ্টা পরে শাহিদ হুসেন নামে এক যাত্রী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, কালো রংয়ের ওই ট্রলি ব্যাগটি ভুল করে তিনিই বিমানবন্দরে ফেলে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার স্পাইস জেটের বিমান মুম্বাই থেকে দিল্লি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন শাহিদ। ব্যাগে যে কোনওরকম বিস্ফোরক নেই, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও সে বিষয়ে একরকম নিশ্চিত। ওই যাত্রী যখন ব্যাগটি নিতে আসবেন, তখন তাঁর সামনেই সেটি খুলে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে ইন্দিরা গাঁধী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুন- দিল্লির বিমানবন্দরে রহস্যজনক ব্যাগ ঘিরে আতঙ্ক, আরডিএক্স থাকার আশঙ্কা

আরও পড়ুন- কলকাতা বিমানবন্দরে চূড়ান্ত সতর্কতা, তৈরি বম্ব স্কোয়াড, দেখুন ভিডিও

নিরাপত্তা বিষয়ক আধিকারিকদের ওই যাত্রী জানিয়েছেন, ব্যাগের মধ্যে জামাকাপড়, খেলনা, চকোলেট, কানের দুল, খেলনার সঙ্গে একটি ল্যাপটপ এবং চার্জার রয়েছে। 

তবে কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাগটিকে একটি মোটা ধাতব বিস্ফোরক নিরোধক বাক্সে রেখে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাগ উদ্ধারের পরেই রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল বিমানবন্দর চত্বর জুড়ে। ব্যাগ পরীক্ষার জন্য গোয়েন্দা কুকুর, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞররা ছাড়াও ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড থেকে বোমা পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হয়। আরডিএক্স সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও ব্যাগের মধ্যে তার জাতীয় কিছু রয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হন বিশেষজ্ঞরা। সিআইএসএফ-এর স্পেশ্যাল ডিরেক্টর জেনারেল (এয়ারপোর্ট সেক্টর) এম এ গণপতি অবশ্য শুক্রবারই জানিয়েছিলেন, ব্যাগে আরডিএক্স রয়েছে, তা আগেভাগে বলা ভুল হবে। চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্যই অপেক্ষা করছিল সিআইএসএফ। সেই রিপোর্ট তৈরির জন্য ব্যাগটিকে চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হত। তার মধ্যেই ব্যাগের আসল মালিকের খোঁজ মেলে।